টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সড়কের একাধিক অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি, সাজেক ও লংগদুর সাথে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সাথে রাঙ্গামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে প্রায় সাড়ে চারশ পর্যটক আটকা পড়েছেন।
বুধবার সকাল থেকেই অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী অংশ পানিতে ডুবে যায়, যার ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ির সাথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার এলাকার সড়কও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লংগদুর সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মেরুং ইউনিয়নের একাধিক গ্রামও প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক বাড়িঘর ও আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে।
টানা বর্ষণে মাইনী নদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।
এদিকে, সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক যুবরাজ জানিয়েছেন, আটকা পড়া পর্যটকদের ইউটিলিটি বিল দিয়ে থাকা এবং বিশেষ ছাড়ে রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, পাহাড় ধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তিনি শুকনো খাবারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
তবে জেলার চেঙ্গী নদী ও আশপাশের ছড়া খালের পানি কিছুটা কমলেও প্লাবিত কয়েকটি এলাকা থেকে পানি নামেনি এবং অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















