বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্প্রতি ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ বা প্রত্যেক শিক্ষকের হাতে একটি করে ট্যাবলেট কম্পিউটার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে এটি একটি আধুনিক চিন্তা মনে হলেও প্রশ্ন উঠছে এর কার্যকারিতা নিয়ে। শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন মূলত নির্ভর করে শিক্ষকের দক্ষতার ওপর, প্রযুক্তির ওপর নয়। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কেবল প্রযুক্তি সরবরাহ শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সহায়ক হবে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
ব্যানবেইসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক স্তরের পৌনে তিন লাখ শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ২৭ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষক পেশাগত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। অর্থাৎ বিশাল একটি অংশ এখনো আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ধারণা রাখেন না। এমন পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম বিতরণ করলে তা কেবল অর্থের অপচয় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে, তা তদারকির অভাব রয়েছে। পাঠপরিকল্পনা তৈরি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদানের দক্ষতা অর্জনে ধারাবাহিক মেন্টরিং প্রয়োজন। সুতরাং, ডিজিটাল সরঞ্জামে বড় অংকের বিনিয়োগ করার আগে শিক্ষকদের মৌলিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শিক্ষা খাতের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রিপোর্টারের নাম 























