ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

দুই শিশু হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াসমিনের নিঃসঙ্গ দিনযাপন: কেউ নেয় না খোঁজ

চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে নিঃসঙ্গ দিন কাটছে ইয়াসমিনের, যিনি প্রতিবেশী দুই শিশুকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন, যদি কেউ তার খোঁজ নিতে আসে। কিন্তু পরিবার-পরিজন বা স্বজন—কারো কাছ থেকেই কোনো খোঁজ আসে না; সবারই একরাশ ঘৃণা তার প্রতি।

কারা দপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, পরকীয়া প্রেমের সাক্ষী হওয়ায় ওই দুই শিশুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ইয়াসমিন ও তার পরকীয়া সঙ্গী। এখন সামনে মৃত্যুর রশি ঝুলে থাকায় ইয়াসমিন ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন এবং তসবিহ্ জপতেও দেখা যায় তাকে। নিয়মানুযায়ী কনডেম সেলের আসামিদের জন্য কারাগারে কোনো কাজ না থাকায় তিনি ভেতরেই চুপচাপ থাকেন।

চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ এবং আদালতের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগরের লাজৈর গ্রামের প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। একদিন তাকে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে দেবরের ছেলে আরাফাত। এরপর ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল তাকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন ইয়াসমিন। ওই ঘটনা দেখে ফেলায় জসিম নামে আরেক শিশুকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তিনি। পরে লাশ দুটি খালে ডুবিয়ে দেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার চাচি শাশুড়ি মাজেদা বেগম।

শিশুদের হত্যা করে রক্তাক্ত কাপড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ইয়াসমিনকে আটক করে পুলিশে দেন। ঘটনার পর মাজেদা বেগম আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২২ সালে র‌্যাব-১১ তাকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আটক করে। ইয়াসমিনকে উদ্ধৃত করে চার্জশিটে পুলিশ উল্লেখ করে, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আরাফাত ও জসিমকে হত্যার পর বাড়ির পাশে কালাডুমুর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ নদী থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের আচরণ ‘লজ্জাজনক’, ক্ষুব্ধ ফুটবল কিংবদন্তিরা

দুই শিশু হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াসমিনের নিঃসঙ্গ দিনযাপন: কেউ নেয় না খোঁজ

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে নিঃসঙ্গ দিন কাটছে ইয়াসমিনের, যিনি প্রতিবেশী দুই শিশুকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকেন, যদি কেউ তার খোঁজ নিতে আসে। কিন্তু পরিবার-পরিজন বা স্বজন—কারো কাছ থেকেই কোনো খোঁজ আসে না; সবারই একরাশ ঘৃণা তার প্রতি।

কারা দপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, পরকীয়া প্রেমের সাক্ষী হওয়ায় ওই দুই শিশুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ইয়াসমিন ও তার পরকীয়া সঙ্গী। এখন সামনে মৃত্যুর রশি ঝুলে থাকায় ইয়াসমিন ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন এবং তসবিহ্ জপতেও দেখা যায় তাকে। নিয়মানুযায়ী কনডেম সেলের আসামিদের জন্য কারাগারে কোনো কাজ না থাকায় তিনি ভেতরেই চুপচাপ থাকেন।

চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ এবং আদালতের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগরের লাজৈর গ্রামের প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। একদিন তাকে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে দেবরের ছেলে আরাফাত। এরপর ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল তাকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন ইয়াসমিন। ওই ঘটনা দেখে ফেলায় জসিম নামে আরেক শিশুকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তিনি। পরে লাশ দুটি খালে ডুবিয়ে দেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার চাচি শাশুড়ি মাজেদা বেগম।

শিশুদের হত্যা করে রক্তাক্ত কাপড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ইয়াসমিনকে আটক করে পুলিশে দেন। ঘটনার পর মাজেদা বেগম আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২২ সালে র‌্যাব-১১ তাকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আটক করে। ইয়াসমিনকে উদ্ধৃত করে চার্জশিটে পুলিশ উল্লেখ করে, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আরাফাত ও জসিমকে হত্যার পর বাড়ির পাশে কালাডুমুর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ নদী থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে।