ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

আদাবরে বাঁশি বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে হত্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র

রাজধানীর আদাবর নবোদয় হাউজিং এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) এবং মো. মিজানুর রহমান (৪০)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই রাতে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার (৪৫) এবং একই ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫)। তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশার মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা থেকে। পরবর্তী দিনগুলোতে এই বিরোধ একাধিকবার উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ১ জুলাই রাতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও, বৈঠকের শেষ মুহূর্তে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়, যার পরিণতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের ত্রাণকর্তা হ্যারি কেইন: সংকটে গোল, জয়ে নেতৃত্ব

আদাবরে বাঁশি বাজানো নিয়ে সংঘর্ষে হত্যা: ৪ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার অস্ত্র

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর আদাবর নবোদয় হাউজিং এলাকায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির হাতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) এবং মো. মিজানুর রহমান (৪০)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই রাতে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের চার রাস্তার মোড়ে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার (৪৫) এবং একই ইউনিটের সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫)। তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশার মারা যান। আহত সাদ্দাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা থেকে। পরবর্তী দিনগুলোতে এই বিরোধ একাধিকবার উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ১ জুলাই রাতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও, বৈঠকের শেষ মুহূর্তে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়, যার পরিণতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।