ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিআর পদ্ধতি ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে রাজধানীতে ইসলামী দলগুলোর গণমিছিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল করেছে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল। গণমিছিল থেকে নেতারা দাবি করেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে জনগণের মধ্যে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যদিও দেশের বেশিরভাগ মানুষ এই পদ্ধতির পক্ষে। একই সঙ্গে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের যেকোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। এছাড়া, তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও জানান।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে গণমিছিল বের করে। এর আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবশ্যই জুলাই সনদের ভিত্তিতে হতে হবে। এটি বাস্তবায়নে গণভোট দিতে হবে, যেখানে পিআর পদ্ধতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জাতির মতামত উপেক্ষা করে পিআরকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ তাদের মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

একই পাঁচ দফা দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু করে। দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করবে, তারা বাহাত্তরের বাকশালী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাই সব রাজনৈতিক দলকে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হলো আগামীর বাংলাদেশের বাঁচা-মরার এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন। এখন এই গণদাবি বাস্তবায়ন করতে না পারায় সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত।’
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মামুনুল হক আগামী ১২ অক্টোবর সারা দেশের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আমীনের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
একই দাবিতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে খেলাফত মজলিসও গণমিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর, বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাওসিফ সামি

পিআর পদ্ধতি ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে রাজধানীতে ইসলামী দলগুলোর গণমিছিল

আপডেট সময় : ০৭:৪০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল করেছে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল। গণমিছিল থেকে নেতারা দাবি করেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে জনগণের মধ্যে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, যদিও দেশের বেশিরভাগ মানুষ এই পদ্ধতির পক্ষে। একই সঙ্গে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের যেকোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। এছাড়া, তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও জানান।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে গণমিছিল বের করে। এর আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি আগামী ১৫ অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন অবশ্যই জুলাই সনদের ভিত্তিতে হতে হবে। এটি বাস্তবায়নে গণভোট দিতে হবে, যেখানে পিআর পদ্ধতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জাতির মতামত উপেক্ষা করে পিআরকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ তাদের মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

একই পাঁচ দফা দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু করে। দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমাদ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করবে, তারা বাহাত্তরের বাকশালী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাই সব রাজনৈতিক দলকে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হলো আগামীর বাংলাদেশের বাঁচা-মরার এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন। এখন এই গণদাবি বাস্তবায়ন করতে না পারায় সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত।’
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মামুনুল হক আগামী ১২ অক্টোবর সারা দেশের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুরশিদ সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আমীনের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজীসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
একই দাবিতে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে খেলাফত মজলিসও গণমিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী ও মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।