ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পিআর পদ্ধতিতেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে: চরমোনাই পীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী শক্তিকে অবশ্যই ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে দেশে ইসলামকে ক্ষমতায় আনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য পিআর পদ্ধতি (প্রতিনিধিত্বমূলক আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি) বাস্তবায়ন করা জরুরি।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এই সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, বর্তমান প্রচলিত নির্বাচনী পদ্ধতিতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। এর ফলস্বরূপ জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অন্যায় প্রভাব সৃষ্টি হয়, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, আর মালিকরা রাতারাতি ধন-সম্পদের মালিক হয়ে যান।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, জনগণের ভোটের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন করাই হলো গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত পন্থা। এতে জনগণের দেওয়া প্রতিটি ভোটের মূল্য সংরক্ষিত থাকবে, ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে, যা জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রথম থেকেই পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এখন সময় এসেছে এই দাবিকে জাতীয় ঐক্যের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার। তাই তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন না করলে কখনই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখে, যেখানে মানুষ ও কুকুরকে খাদ্যের জন্য লড়তে হবে না, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না, এবং সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিঝু উৎসব

পিআর পদ্ধতিতেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে: চরমোনাই পীর

আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী শক্তিকে অবশ্যই ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে দেশে ইসলামকে ক্ষমতায় আনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য পিআর পদ্ধতি (প্রতিনিধিত্বমূলক আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি) বাস্তবায়ন করা জরুরি।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এই সমাবেশে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তাঁর মতে, বর্তমান প্রচলিত নির্বাচনী পদ্ধতিতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। এর ফলস্বরূপ জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অন্যায় প্রভাব সৃষ্টি হয়, শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, আর মালিকরা রাতারাতি ধন-সম্পদের মালিক হয়ে যান।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, জনগণের ভোটের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন করাই হলো গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত পন্থা। এতে জনগণের দেওয়া প্রতিটি ভোটের মূল্য সংরক্ষিত থাকবে, ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে, যা জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রথম থেকেই পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এখন সময় এসেছে এই দাবিকে জাতীয় ঐক্যের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার। তাই তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন না করলে কখনই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখে, যেখানে মানুষ ও কুকুরকে খাদ্যের জন্য লড়তে হবে না, মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না, এবং সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ।