ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

এমবাপ্পের গোল-ঝড়ে বিধ্বস্ত সুইডেন, বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন ফরাসি তারকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মাত্র ২৯ মিনিটের এক ঝলকেই সুইডিশ রক্ষণভাগ বুঝে গিয়েছিল আজকের রাতটা তাদের জন্য নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের গতির ঝড়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। প্রথমবার বল পায়ে ছুটলেন, গোল! দ্বিতীয়বার ডি-বক্সে বল পেয়ে আবারও গোল। স্কোরবোর্ডে ফ্রান্স তখন ৩-০ তে এগিয়ে, আর এমবাপ্পের বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা চার ম্যাচে ছয়। গ্যালারিতে উল্লাস, কিন্তু সুইডিশ ডিফেন্ডারদের চোখে-মুখে তখন কেবলই বিস্ময়—‘ওহ্ এমবাপ্পে, ইউ ইম্পসিবল!’

ফুটবলে কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের নাম শুনেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা সাজায়। আবার কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের সামনে সব পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। এমবাপ্পে সেই দ্বিতীয় দলের একজন। ডি-বক্সের সামনে তাকে এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা ছেড়ে দেওয়া মানেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তিনি শুধু একজন স্ট্রাইকার নন, তিনি যেন চলমান বিপদসংকেত। ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের কোচরা তার নামের পাশে নোটশিটে পরিচয়টা এভাবে লেখেন—এমবাপ্পে, দ্য ডেঞ্জারম্যান!

চার ম্যাচে ছয় গোল। গোল করলে জোড়ায় করেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচ খেলেই গোল ১৯টি! সংখ্যাটা শুনে অবাস্তব মনে হতে পারে, যেন ভিডিও গেমের হিসাব। কিন্তু এমবাপ্পে বাস্তব ফুটবলকেই সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছেন। ২০১৮ সালে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে চার গোল সঙ্গে ট্রফি জয়। ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক এবং সাত ম্যাচের টুর্নামেন্টে ছয় গোল। আর এবার এখন পর্যন্ত মাত্র চার ম্যাচে আরো হাফডজন গোল। মোট ১৬ ম্যাচে ১৯ গোল! প্রশ্ন একটাই—কোথায় গিয়ে থামবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে? আর এই ফ্রান্সকে আটকাবে কে?

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসিকে ছুঁতে তার এখন চাই মাত্র একটি গোল। ২৭ বছর বয়সেই ইতিহাসের দরজায় এমনভাবে কড়া নাড়তে আধুনিক ফুটবলে খুব কম খেলোয়াড়ই পেরেছেন। তবে এমবাপ্পের গল্প শুধু সংখ্যার নয়, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে তার খেলার স্টাইল, তার জয়ের ক্ষুধা। বল পায়ে এমবাপ্পে যখন দৌড়ান, মনে হয় যেন বাতাসকে সঙ্গে নিয়ে উড়ছেন! ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়ার ক্ষমতা অনেকেরই আছে; কিন্তু সেই গতিকে কখন ব্যবহার করতে হবে—সেটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি অকারণে স্প্রিন্ট দেন না। ডিফেন্স লাইনের সামান্য ফাঁকটা কোথায় রয়েছে, তা তিনি অনুমান করেন। অফসাইড ট্র্যাপের ঠিক কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকেন, তারপর এমন সময় দৌড় শুরু করেন যে, ডিফেন্ডাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে দেশে ফেরানো নিয়ে অনিশ্চয়তা: দুবাই পুলিশের সাড়া নেই

এমবাপ্পের গোল-ঝড়ে বিধ্বস্ত সুইডেন, বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন ফরাসি তারকা

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

মাত্র ২৯ মিনিটের এক ঝলকেই সুইডিশ রক্ষণভাগ বুঝে গিয়েছিল আজকের রাতটা তাদের জন্য নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের গতির ঝড়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। প্রথমবার বল পায়ে ছুটলেন, গোল! দ্বিতীয়বার ডি-বক্সে বল পেয়ে আবারও গোল। স্কোরবোর্ডে ফ্রান্স তখন ৩-০ তে এগিয়ে, আর এমবাপ্পের বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা চার ম্যাচে ছয়। গ্যালারিতে উল্লাস, কিন্তু সুইডিশ ডিফেন্ডারদের চোখে-মুখে তখন কেবলই বিস্ময়—‘ওহ্ এমবাপ্পে, ইউ ইম্পসিবল!’

ফুটবলে কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের নাম শুনেই প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা সাজায়। আবার কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের সামনে সব পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। এমবাপ্পে সেই দ্বিতীয় দলের একজন। ডি-বক্সের সামনে তাকে এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা ছেড়ে দেওয়া মানেই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তিনি শুধু একজন স্ট্রাইকার নন, তিনি যেন চলমান বিপদসংকেত। ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের কোচরা তার নামের পাশে নোটশিটে পরিচয়টা এভাবে লেখেন—এমবাপ্পে, দ্য ডেঞ্জারম্যান!

চার ম্যাচে ছয় গোল। গোল করলে জোড়ায় করেন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচ খেলেই গোল ১৯টি! সংখ্যাটা শুনে অবাস্তব মনে হতে পারে, যেন ভিডিও গেমের হিসাব। কিন্তু এমবাপ্পে বাস্তব ফুটবলকেই সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছেন। ২০১৮ সালে নিজের অভিষেক বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে চার গোল সঙ্গে ট্রফি জয়। ২০২২ সালের ফাইনালে হ্যাটট্রিক এবং সাত ম্যাচের টুর্নামেন্টে ছয় গোল। আর এবার এখন পর্যন্ত মাত্র চার ম্যাচে আরো হাফডজন গোল। মোট ১৬ ম্যাচে ১৯ গোল! প্রশ্ন একটাই—কোথায় গিয়ে থামবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে? আর এই ফ্রান্সকে আটকাবে কে?

বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় লিওনেল মেসিকে ছুঁতে তার এখন চাই মাত্র একটি গোল। ২৭ বছর বয়সেই ইতিহাসের দরজায় এমনভাবে কড়া নাড়তে আধুনিক ফুটবলে খুব কম খেলোয়াড়ই পেরেছেন। তবে এমবাপ্পের গল্প শুধু সংখ্যার নয়, এর আড়ালে লুকিয়ে আছে তার খেলার স্টাইল, তার জয়ের ক্ষুধা। বল পায়ে এমবাপ্পে যখন দৌড়ান, মনে হয় যেন বাতাসকে সঙ্গে নিয়ে উড়ছেন! ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়ার ক্ষমতা অনেকেরই আছে; কিন্তু সেই গতিকে কখন ব্যবহার করতে হবে—সেটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তিনি অকারণে স্প্রিন্ট দেন না। ডিফেন্স লাইনের সামান্য ফাঁকটা কোথায় রয়েছে, তা তিনি অনুমান করেন। অফসাইড ট্র্যাপের ঠিক কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকেন, তারপর এমন সময় দৌড় শুরু করেন যে, ডিফেন্ডাররা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।