ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

খুলনার পাইকগাছায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, তবুও তিনি এখনো স্বপদেই বহাল আছেন। এতে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, পাইকগাছার লস্কর উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম পাওয়া গেছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নং বরশুল গ্রামের বাসিন্দা হলেও পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার হিসেবেও নিবন্ধিত। তার স্ত্রী, মেয়ে, বড় ভাই ও তার স্ত্রী, এবং ছোট ভাই ও তার স্ত্রীও ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীপক তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে পাঠিয়ে দিলেও বাংলাদেশে থেকে স্কুলকে ব্যবহার করে অর্থবিত্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি ২০২৪ সালে স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দিয়েছেন, যেখানে অন্তত ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চললেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল, সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এছাড়াও, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রণোদনা অনুদান বাবদ বরাদ্দকৃত পাঁচ লাখ টাকার খরচেও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যয় করা হলেও বাকি দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকায় স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং বিল্ডিংয়ের মেরামতের কাজ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তদন্ত রিপোর্টে কাজের মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিল ভাউচারগুলো যথাযথ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থ পাচার ও সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

খুলনার পাইকগাছায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, তবুও তিনি এখনো স্বপদেই বহাল আছেন। এতে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, পাইকগাছার লস্কর উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম পাওয়া গেছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নং বরশুল গ্রামের বাসিন্দা হলেও পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার হিসেবেও নিবন্ধিত। তার স্ত্রী, মেয়ে, বড় ভাই ও তার স্ত্রী, এবং ছোট ভাই ও তার স্ত্রীও ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীপক তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে পাঠিয়ে দিলেও বাংলাদেশে থেকে স্কুলকে ব্যবহার করে অর্থবিত্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তিনি ২০২৪ সালে স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া নিয়োগ দিয়েছেন, যেখানে অন্তত ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া চললেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল, সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এছাড়াও, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রণোদনা অনুদান বাবদ বরাদ্দকৃত পাঁচ লাখ টাকার খরচেও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যয় করা হলেও বাকি দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকায় স্কুলের বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং বিল্ডিংয়ের মেরামতের কাজ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে তদন্ত রিপোর্টে কাজের মান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিল ভাউচারগুলো যথাযথ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।