ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

অপরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ ছাড়ল ইরান, প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার দল

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও মাঠে প্রতিপক্ষের কাছে হার মানেনি ইরান। তিন ম্যাচ খেলে একটিতেও পরাজিত হয়নি তারা। তবে, ভিসা জটিলতা, প্রশাসনিক বৈষম্য, অমানবিক ভ্রমণসূচি এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মতো নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে অপরাজিত থেকেই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছে। এই বিশ্বকাপে ইরানের মূল প্রতিপক্ষ ছিল কোনো ফুটবল দল নয়, বরং ছিল বৈরী পরিবেশ।

কোচ আমির ঘালেনোইয়ের দল এই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে লড়াই করেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরানের ওপর নেমে আসে নানা বাধা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তাদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ মুহূর্তে বদলে যায়। দলের কোচিং ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা মার্কিন ভিসা পাননি, ফলে বড় লজিস্টিক সহায়তা ছাড়াই তাদের টুর্নামেন্ট খেলতে হয়েছে। এছাড়া, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ এবং দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মাত্র ১৬ ঘণ্টা হাতে নিয়ে ম্যাচ ভেন্যুতে পৌঁছানোর মতো ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি।

ম্যাচ শেষে কোচ আমির ঘালেনোই বলেছিলেন, ‘আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলছি না। আমরা শুধু বলছি, আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো দলের সঙ্গে তা না হয়।’ মিডফিল্ডার সাইদ এজাতোল্লাহিও প্রকাশ্যে বলেন, মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে পৌঁছে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যিনি ২০১৭ সালে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপ খেলা প্রতিটি দলকে স্বাগতিক দেশে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে, তার এবারের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের রাজা নই। আমরা একটি ক্রীড়া সংস্থা।’ এই অবস্থানকে অনেকে ফিফার নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন, কারণ বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা ফিফার মৌলিক দায়িত্ব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর তিস্তার পানি, নীলফামারীতে বন্যার শঙ্কা

অপরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ ছাড়ল ইরান, প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার দল

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও মাঠে প্রতিপক্ষের কাছে হার মানেনি ইরান। তিন ম্যাচ খেলে একটিতেও পরাজিত হয়নি তারা। তবে, ভিসা জটিলতা, প্রশাসনিক বৈষম্য, অমানবিক ভ্রমণসূচি এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মতো নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে অপরাজিত থেকেই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছে। এই বিশ্বকাপে ইরানের মূল প্রতিপক্ষ ছিল কোনো ফুটবল দল নয়, বরং ছিল বৈরী পরিবেশ।

কোচ আমির ঘালেনোইয়ের দল এই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে লড়াই করেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইরানের ওপর নেমে আসে নানা বাধা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তাদের নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ মুহূর্তে বদলে যায়। দলের কোচিং ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা মার্কিন ভিসা পাননি, ফলে বড় লজিস্টিক সহায়তা ছাড়াই তাদের টুর্নামেন্ট খেলতে হয়েছে। এছাড়া, চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ এবং দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মাত্র ১৬ ঘণ্টা হাতে নিয়ে ম্যাচ ভেন্যুতে পৌঁছানোর মতো ঘটনাও ঘটে। এই পরিস্থিতিতেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি।

ম্যাচ শেষে কোচ আমির ঘালেনোই বলেছিলেন, ‘আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলছি না। আমরা শুধু বলছি, আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো দলের সঙ্গে তা না হয়।’ মিডফিল্ডার সাইদ এজাতোল্লাহিও প্রকাশ্যে বলেন, মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে ভেন্যুতে পৌঁছে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, যিনি ২০১৭ সালে বলেছিলেন যে বিশ্বকাপ খেলা প্রতিটি দলকে স্বাগতিক দেশে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে, তার এবারের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের রাজা নই। আমরা একটি ক্রীড়া সংস্থা।’ এই অবস্থানকে অনেকে ফিফার নৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন, কারণ বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে সব দলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা ফিফার মৌলিক দায়িত্ব।