প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঘোষণা করেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কেবল ডিগ্রিধারী না হয়ে দক্ষ, নৈতিক এবং কর্মসংস্থান উপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের মতো কেবল সনদসর্বস্ব শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং বাস্তব কর্মজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
রবিবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের একজন গড় এইচএসসি শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সমমানের। এই বাস্তবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই শুধু পরীক্ষায় পাশ করানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখা, দক্ষতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলস্বরূপ বহু শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এমন সব বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। এই প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী, ক্যারিয়ারভিত্তিক এবং দক্ষতাকেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। তিনি নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করা অপরিহার্য। শিক্ষাব্যবস্থায় এসব বিষয়কে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানল্লাহ এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মো. মোখলেস উর রহমান। এছাড়াও কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















