জীবিকার তাগিদে ইতালিতে পাড়ি জমানো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কামাল উদ্দিন বাবুলের পরিবারে নেমে এসেছে চরম শোক। রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে নিজ বাসভবনে নৃশংস ছুরিকাঘাতে তিনি, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। এই হামলায় তাদের একমাত্র ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
২০১০ সালে পরিবারকে সুখী করার স্বপ্ন নিয়ে ইতালিতে গিয়েছিলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫)। সেখানে স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং ছেলে আমির হোসেন অয়ন ও মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশাকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ছোট সংসার। কিন্তু গত শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তবে ঘটনার দিন) রাতে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় তাদের সেই সুখের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতালির স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে রোমের ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাবুলের বাসায় ঢুকে তাকে, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং শিশুকন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাইরে থেকে বাসায় ফিরে ছেলে আমির হোসেন অয়ন ঘটনাটি দেখে ফেললে দুর্বৃত্তরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অয়ন বর্তমানে ইতালির জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা সিরাজ আলম অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে একই এলাকার ইতালিপ্রবাসী শাহাদাত নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। যদিও ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি।
এদিকে, একসঙ্গে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্বজনরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























