ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর স্ত্রী আফেলা বেগম এখন চরম অর্থকষ্ট আর অবহেলার শিকার। স্বামী মারা যাওয়ার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও জোটেনি মাথা গোঁজার ঠাঁই। অভাবের সংসারে দুই ছেলে ও অসুস্থ সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে এই বৃদ্ধার। সরকারি সুযোগ-সুবিধার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।
মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী ১৯৭১ সালে ভারতের প্রশিক্ষণ শেষে ৮ নম্বর সেক্টরের অধীনে রণাঙ্গনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরকারি গেজেট তালিকায় তার নাম ৭৭৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তার পরিবার বর্তমানে চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি। আফেলা বেগম জানান, তার স্বামী জীবিত থাকাকালীন চালকের কাজ করে সংসার চালাতেন। ২০০২ সালে তার মৃত্যুর পর পরিবারটি অকূল পাথারে পড়ে। বর্তমানে তার তিন ছেলের মধ্যে একজন শারীরিক অসুস্থ, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী এবং অন্যজন কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
আফেলা বেগমের অভিযোগ, অনেক মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ঘর পেলেও তার ভাগ্যে তা জোটেনি। বর্তমানে টিনের ভাঙাচোরা বেড়ায় ঘেরা ঘরে অত্যন্ত কষ্টে দিনযাপন করছেন তিনি। অভাব-অনটনের কারণে সন্তানদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশ স্বাধীনে অবদান রাখা এই বীর সেনানির পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সরকারি ঘর ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে এই পরিবারটির দুঃখ লাঘব হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
রিপোর্টারের নাম 
























