ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা মুক্ত দিবস আজ: সংকীর্ণ করিডোরে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান চায় ২২ হাজার মানুষ

আজ ২৬ জুন, দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক আনন্দঘন দিন। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছিল আজকের এই দিনটি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন বিঘা করিডোরকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আবর্তিত হয়েছে বহু বছর ধরে।

নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার প্রায় ২২ হাজার বাসিন্দাকে করিডোর ব্যবহারের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ মানতে হতো, যা ছিল সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ। ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই বৃহত্তম ছিটমহলটি মূলত বাংলাদেশের মালিকানাধীন ভূমি, যা ভারতের অংশে মাত্র তিন বিঘা জায়গার মধ্যে অবস্থিত। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ তিন বিঘা করিডোর ইজারা পাওয়ার পর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাতায়াতের একটি পথ তৈরি হয়, যা দুই দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন বিঘা করিডোরের আয়তন হওয়ার কথা ছিল দৈর্ঘ্যে ১৭৮ মিটার এবং প্রস্থে ৮৫ মিটার। কিন্তু বাস্তবে ছিটমহলবাসীরা মাত্র ৯ ফুট প্রশস্ত একটি সরু রাস্তা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। এই সংকীর্ণতার কারণে দহগ্রামবাসীদের প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। করিডোরের মাঝখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও যান চলাচলে প্রায়শই বিঘ্ন ঘটায়।

এছাড়াও, বিএসএফ চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা, ট্রাফিক পোস্ট এবং অবজারভেশন টাওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীকে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান ৯ ফুট প্রশস্ত রাস্তায় চার বা ছয় চাকার গাড়ি প্রবেশ করলে অন্য সব যানবাহনকে পানবাড়ী বা দহগ্রাম পোস্টে অপেক্ষা করতে হয়। করিডোরের দুই ধারে লাইটপোস্ট ও ফুলের টব স্থাপনের কারণে পথটি আরও সংকুচিত হয়ে ৯-১০ ফুটে পরিণত হয়েছে। এতে অনেক সময় গাড়ির বাম্পার বা পরিবহনকৃত মালামালের ধাক্কায় ভারতীয় স্থাপনার কোনো ক্ষতি হলে বাংলাদেশিদের নানা হয়রানি ও জরিমানা গুনতে হয়। ১৯৭৪ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্তগুলো আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর ভোগান্তি রয়েই গেছে, যার অবসান চায় তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিরোধ’, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক জামায়াত আমিরের

দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা মুক্ত দিবস আজ: সংকীর্ণ করিডোরে দীর্ঘ ভোগান্তির অবসান চায় ২২ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

আজ ২৬ জুন, দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক আনন্দঘন দিন। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছিল আজকের এই দিনটি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন বিঘা করিডোরকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আবর্তিত হয়েছে বহু বছর ধরে।

নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতার প্রায় ২২ হাজার বাসিন্দাকে করিডোর ব্যবহারের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ মানতে হতো, যা ছিল সীমাহীন দুর্ভোগের কারণ। ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই বৃহত্তম ছিটমহলটি মূলত বাংলাদেশের মালিকানাধীন ভূমি, যা ভারতের অংশে মাত্র তিন বিঘা জায়গার মধ্যে অবস্থিত। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ তিন বিঘা করিডোর ইজারা পাওয়ার পর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাতায়াতের একটি পথ তৈরি হয়, যা দুই দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন বিঘা করিডোরের আয়তন হওয়ার কথা ছিল দৈর্ঘ্যে ১৭৮ মিটার এবং প্রস্থে ৮৫ মিটার। কিন্তু বাস্তবে ছিটমহলবাসীরা মাত্র ৯ ফুট প্রশস্ত একটি সরু রাস্তা ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। এই সংকীর্ণতার কারণে দহগ্রামবাসীদের প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। করিডোরের মাঝখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও যান চলাচলে প্রায়শই বিঘ্ন ঘটায়।

এছাড়াও, বিএসএফ চেকপোস্ট, সিসি ক্যামেরা, ট্রাফিক পোস্ট এবং অবজারভেশন টাওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীকে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান ৯ ফুট প্রশস্ত রাস্তায় চার বা ছয় চাকার গাড়ি প্রবেশ করলে অন্য সব যানবাহনকে পানবাড়ী বা দহগ্রাম পোস্টে অপেক্ষা করতে হয়। করিডোরের দুই ধারে লাইটপোস্ট ও ফুলের টব স্থাপনের কারণে পথটি আরও সংকুচিত হয়ে ৯-১০ ফুটে পরিণত হয়েছে। এতে অনেক সময় গাড়ির বাম্পার বা পরিবহনকৃত মালামালের ধাক্কায় ভারতীয় স্থাপনার কোনো ক্ষতি হলে বাংলাদেশিদের নানা হয়রানি ও জরিমানা গুনতে হয়। ১৯৭৪ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তির শর্তগুলো আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর ভোগান্তি রয়েই গেছে, যার অবসান চায় তারা।