ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হলো মামুনুর রশীদের ‘অমানুষ’

বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদের সাড়া জাগানো নাটক ‘অমানুষ’ এবার মঞ্চস্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বুকে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মঞ্চনাটকের নির্দেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন জান্নাতুল টুম্পা। তার পরিচালনায় ‘সূচনা থিয়েটার’-এর ব্যানারে নাটকটি প্রবাসীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির নিউ ব্রান্সউইকের ৯ বেয়ার্ড স্ট্রিটে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে নাটকটির দুটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের ২১তম বার্ষিক আসর উপলক্ষে এই নাটকের আয়োজন করা হয়। উৎসবটির মূল আয়োজক ছিল ‘এপিক’ (এমপাওয়ারিং পিপল ইনস্পায়ারিং কমিউনিটি) এবং সহ-আয়োজক হিসেবে কাজ করেছে ‘কোল্যাব আর্টস’। নাটকটির নজরকাড়া পোস্টারের ধারণা ও নকশা করেছেন রানা মাসুদ ও রাহি চৌধুরী।

প্রথমবার নির্দেশকের আসনে বসা প্রসঙ্গে জান্নাতুল টুম্পা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “প্রায় দুই দশক ধরে আমি নাটক প্রযোজনার সঙ্গে জড়িত। ফলে পর্দার পেছনের কাজ এবং নির্মাণশৈলী খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, নিজে পরিচালনায় আসার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু শ্রদ্ধেয় নাট্যকার মামুনুর রশীদের অনুপ্রেরণা ও ইচ্ছাতেই ‘অমানুষ’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছি। দর্শকদের ভালোবাসা ও সবার সমর্থন পেলে আগামীতেও এ কাজ নিয়মিত করে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।”

‘অমানুষ’ নাটকের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন আদর্শবাদী শিক্ষককে কেন্দ্র করে, যিনি একটি সুন্দর, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন বুনেন। কিন্তু চারপাশের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক অবক্ষয়ের করাল গ্রাসে তার সেই স্বপ্নগুলো একে একে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হতে থাকে।

চারপাশের এই বৈরী পরিবেশের চাপে একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ভারসাম্য হারিয়ে চরম এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে পা বাড়ান। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে তার স্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন—স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া মানেই জীবন শেষ নয়; বরং বৈরী পরিস্থিতিতেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখাই হলো বেঁচে থাকার আসল শক্তি। এক চরম মানসিক টানাপড়েন, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক বড় প্রশ্ন রেখে যায়—আমরা কি সত্যিই মানুষ হিসেবে বেঁচে আছি, নাকি চারপাশের চাপে ধীরে ধীরে ‘অমানুষ’ হয়ে উঠছি?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে নকআউটের পথে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের; হাইতি ও তুরস্কের বিদায় নিশ্চিত

যুক্তরাষ্ট্রে জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হলো মামুনুর রশীদের ‘অমানুষ’

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদের সাড়া জাগানো নাটক ‘অমানুষ’ এবার মঞ্চস্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বুকে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মঞ্চনাটকের নির্দেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন জান্নাতুল টুম্পা। তার পরিচালনায় ‘সূচনা থিয়েটার’-এর ব্যানারে নাটকটি প্রবাসীদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।

গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির নিউ ব্রান্সউইকের ৯ বেয়ার্ড স্ট্রিটে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে নাটকটির দুটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সাউথ এশিয়ান থিয়েটার ফেস্টিভ্যালের ২১তম বার্ষিক আসর উপলক্ষে এই নাটকের আয়োজন করা হয়। উৎসবটির মূল আয়োজক ছিল ‘এপিক’ (এমপাওয়ারিং পিপল ইনস্পায়ারিং কমিউনিটি) এবং সহ-আয়োজক হিসেবে কাজ করেছে ‘কোল্যাব আর্টস’। নাটকটির নজরকাড়া পোস্টারের ধারণা ও নকশা করেছেন রানা মাসুদ ও রাহি চৌধুরী।

প্রথমবার নির্দেশকের আসনে বসা প্রসঙ্গে জান্নাতুল টুম্পা তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “প্রায় দুই দশক ধরে আমি নাটক প্রযোজনার সঙ্গে জড়িত। ফলে পর্দার পেছনের কাজ এবং নির্মাণশৈলী খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, নিজে পরিচালনায় আসার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু শ্রদ্ধেয় নাট্যকার মামুনুর রশীদের অনুপ্রেরণা ও ইচ্ছাতেই ‘অমানুষ’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছি। দর্শকদের ভালোবাসা ও সবার সমর্থন পেলে আগামীতেও এ কাজ নিয়মিত করে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।”

‘অমানুষ’ নাটকের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন আদর্শবাদী শিক্ষককে কেন্দ্র করে, যিনি একটি সুন্দর, শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গড়ার স্বপ্ন বুনেন। কিন্তু চারপাশের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সামাজিক অবক্ষয়ের করাল গ্রাসে তার সেই স্বপ্নগুলো একে একে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হতে থাকে।

চারপাশের এই বৈরী পরিবেশের চাপে একপর্যায়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ভারসাম্য হারিয়ে চরম এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে পা বাড়ান। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে তার স্ত্রী পাশে এসে দাঁড়ান এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন—স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া মানেই জীবন শেষ নয়; বরং বৈরী পরিস্থিতিতেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখাই হলো বেঁচে থাকার আসল শক্তি। এক চরম মানসিক টানাপড়েন, মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে এই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে, যা দর্শকদের মনে এক বড় প্রশ্ন রেখে যায়—আমরা কি সত্যিই মানুষ হিসেবে বেঁচে আছি, নাকি চারপাশের চাপে ধীরে ধীরে ‘অমানুষ’ হয়ে উঠছি?