ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ প্রবাসীর লাশ ২৬ দিন পর দেশে

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর লাশ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে লাশ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের বজলুর রশীদ (৩৮) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের মনোহর আলী (৩৬)। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে লাশ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে গিয়েছিলেন। তারা সেখানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন এবং তাদের কারোই বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।

শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় বজলুর রশীদ এবং সাড়ে পাঁচটায় মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, তার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গিয়েছিলেন এবং ভালো অবস্থায় ছিলেন না। এখন ঋণ এবং ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। বজলুর রশিদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ প্রবাসীর লাশ ২৬ দিন পর দেশে

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর লাশ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে লাশ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহতরা হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের বজলুর রশীদ (৩৮) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের মনোহর আলী (৩৬)। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে লাশ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে গিয়েছিলেন। তারা সেখানে একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন এবং তাদের কারোই বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।

শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় বজলুর রশীদ এবং সাড়ে পাঁচটায় মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার জানান, তার স্বামী ঋণ করে ইরাকে গিয়েছিলেন এবং ভালো অবস্থায় ছিলেন না। এখন ঋণ এবং ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত। বজলুর রশিদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।