ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ট্রাম্পের ছবি তোলার অনুরোধের দাবি উড়িয়ে দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি, সফর বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি তোলার অনুরোধ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘পুরোপুরি বানানো গল্প’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে মেলোনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহে তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। জি-৭ সম্মেলনে সম্প্রতি ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল, এরপরই ট্রাম্প ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে মেলোনি তাঁর সাথে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি এমন দৃঢ়তা দেখান না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার মনে রাখা দরকার, আমি বা ইতালি কেউ কখনো কারো কাছে ভিক্ষা বা অনুনয়-বিনয় করি না।’

এই ঘটনার পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাট্টারেল্লা মেলোনিকে ফোন করে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও ইতালির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মেলোনির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেনসি বলেছেন, ‘কারো ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভঙ্গিতে কথা বলার অধিকার নেই।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোঁতে মন্তব্য করেছেন, ‘ইতালি এমন অপমানের যোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা জাতীয় মর্যাদার বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।’ সরকারি জোটের নেতা মাত্তেও সালভিনি বলেছেন, ‘যে জর্জিয়াকে আক্রমণ করে, সে আমাদের সবাইকে আক্রমণ করে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প কর্তৃক ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দুই নেতার মধ্যকার পূর্বের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নষ্ট হতে শুরু করেছিল, যা এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আপোষ নয়: সাঈদ আল নোমান

ট্রাম্পের ছবি তোলার অনুরোধের দাবি উড়িয়ে দিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি, সফর বাতিল

আপডেট সময় : ১২:৩৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি তোলার অনুরোধ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘পুরোপুরি বানানো গল্প’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে মেলোনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহে তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন। জি-৭ সম্মেলনে সম্প্রতি ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল, এরপরই ট্রাম্প ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে মেলোনি তাঁর সাথে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে মেলোনি ইনস্টাগ্রামে বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। দুঃখজনক যে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি এমন দৃঢ়তা দেখান না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার মনে রাখা দরকার, আমি বা ইতালি কেউ কখনো কারো কাছে ভিক্ষা বা অনুনয়-বিনয় করি না।’

এই ঘটনার পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাট্টারেল্লা মেলোনিকে ফোন করে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও ইতালির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মেলোনির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেনসি বলেছেন, ‘কারো ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভঙ্গিতে কথা বলার অধিকার নেই।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোঁতে মন্তব্য করেছেন, ‘ইতালি এমন অপমানের যোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা জাতীয় মর্যাদার বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়।’ সরকারি জোটের নেতা মাত্তেও সালভিনি বলেছেন, ‘যে জর্জিয়াকে আক্রমণ করে, সে আমাদের সবাইকে আক্রমণ করে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প কর্তৃক ইরান-সম্পর্কিত যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দুই নেতার মধ্যকার পূর্বের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নষ্ট হতে শুরু করেছিল, যা এই সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আরও স্পষ্ট হয়েছে।