ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানান, অতীতে বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হলেও, এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন। বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী’ বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতেও পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমির মালিকের ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব, আবাসন খাতে নতুন অনিশ্চয়তা

প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানান, অতীতে বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হলেও, এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন। বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী’ বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতেও পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।