ঢাকা ০৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সরকারের নতুন নীতি: কর নয়, উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে রাজস্ব আহরণ

করের হার বৃদ্ধি না করে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে সরকার নতুন করে গুরুত্বারোপ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটলে নতুন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করাই হওয়া উচিত মূল কৌশল।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ধীরে ধীরে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল ও গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠন—এই তিনমুখী কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এ কারণে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের কর কাঠামোর রূপরেখা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর জন্যও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি কার্যক্রমের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নীতি বাস্তবায়নে অধিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু করের আওতা বৃদ্ধি কিংবা হার সমন্বয় করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না, পদ্ধতিগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমির মালিকের ফ্ল্যাটে ১৫ শতাংশ করের প্রস্তাব, আবাসন খাতে নতুন অনিশ্চয়তা

সরকারের নতুন নীতি: কর নয়, উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে রাজস্ব আহরণ

আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

করের হার বৃদ্ধি না করে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে সরকার নতুন করে গুরুত্বারোপ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটলে নতুন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করাই হওয়া উচিত মূল কৌশল।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ধীরে ধীরে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল ও গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠন—এই তিনমুখী কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এ কারণে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের কর কাঠামোর রূপরেখা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর জন্যও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি কার্যক্রমের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নীতি বাস্তবায়নে অধিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু করের আওতা বৃদ্ধি কিংবা হার সমন্বয় করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না, পদ্ধতিগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।