ছোটবেলা থেকেই ইতিহাসের প্রতি এক গভীর টান ছিল। হাজার পৃষ্ঠার বইয়ের পাতায় ডুবে থাকা ছিল নেশার মতো, যা অনেক সময় বকুনিও এনে দিত। সময়টা ছিল সম্ভবত ২০০০ সালের মাঝামাঝি, কোনো এক ঈদের বাজারে হাতে আসে শফীউদ্দীন সরদারের ‘বারো ভূঁইয়ার উপাখ্যান’। সেই উপন্যাসে ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী জঙ্গলবাড়ির কথা পড়ে চমকে উঠি। বাড়ির কাছেই এমন এক ঐতিহাসিক স্থানের অস্তিত্ব আমাকে আলোড়িত করে। নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই স্থানটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে।
কুফা বা মফস্বল শহরের সাধারণ মানুষের মুখে ‘জঙ্গলবাড়ি’ নামটা প্রায়ই শুনতাম, কিন্তু এর আড়ালে যে এক মহাবীরের নাম লুকিয়ে আছে, তা তখনো জানতাম না। রমজানের এক কুয়াশামাখা ভোরে, চারপাশ রহস্যময়তায় ঘেরা, আমি রওনা হই জঙ্গলবাড়ির উদ্দেশে। সঙ্গে জুটে যায় তারাবির নামাজের কিছু তরুণ। মফস্বল শহরে বড় হলেও গ্রামের মেঠোপথে পা রেখে কিশোরগঞ্জের হাত্রাপাড়া গ্রাম থেকে জঙ্গলবাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করি। সঙ্গের ছেলেগুলো জানায়, বেশি দূরে নয়, হেঁটেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। ভোরের ঠান্ডা বাতাসে মনটা চনমনে হয়ে ওঠে।
যত এগোচ্ছিলাম, সঙ্গের ছেলেগুলোর উৎসাহ ততই বাড়ছিল। হঠাৎ একজন আঙুল উঁচিয়ে দেখায়, ‘এই দেখুন, হুজুর! এটা কিন্তু সাধারণ রাস্তা ছিল না, রাজপথ ছিল। এই পথ দিয়েই ঈশা খাঁ তাঁর বিশাল বাহিনী নিয়ে যাতায়াত করতেন।’ থমকে দাঁড়াই। দেখি, জৌলুস হারানো সেই পথ আজ আর রাজপথ নেই। ভেঙে যাওয়া ইট-সুরকিগুলো যেন বোবা সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে। এই বুক চিরেই তো ইতিহাসের মহানায়ক একদিন তাঁর তেজি ঘোড়া ছুটিয়েছিলেন! চোখের সামনে যেন এক ঐতিহাসিক দৃশ্য ভেসে ওঠে, যা কালের সাক্ষী হয়ে আজও বিদ্যমান।
রিপোর্টারের নাম 





















