সম্প্রতি দুই ছেলের নামে ইউনিয়নের নামকরণের অভিযোগের পর আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এবার বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রতিমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রায় ২০ মিনিট ধরে তপ্ত রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (১৭ জুন) বগুড়ার শিবগঞ্জের রোকেয়া সাত্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আলিয়ারহাটে অবস্থিত রোকেয়া সাত্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সমাজসেবা রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক। এছাড়াও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে ৪২৮ জন উপকারভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড ও একটি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
তবে, এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রতিমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তপ্ত রোদের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এই ঘটনার ভিডিও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাষ্ট্রীয় আয়োজনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এভাবে দাঁড় করানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১০ম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রী জানায়, প্রতিমন্ত্রী আসার খবরে তাদের দুটি ক্লাস নেওয়ার পর শিক্ষকরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে তাদের লাল কার্পেটের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং প্রায় আড়াইটার দিকে প্রতিমন্ত্রী এসে পৌঁছান। তারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, স্কুল চলাকালীন সময়ে ক্লাস বাদ দিয়ে এমন আয়োজন এবং অভ্যর্থনার জন্য রোদে দাঁড় করানোর মতো ঘটনা কাম্য নয়। অন্য কোনো স্থানে এই আয়োজন করা হলে তা বেশি প্রশংসিত হতো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা টিফিনের আগেই সব ক্লাস সম্পন্ন করেছি। টিফিনের পর থেকে আমরা প্রোগ্রামের কাজে নিয়োজিত ছিলাম। শিক্ষার্থীসহ আমরা প্রায় ২০ মিনিট প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলীর কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















