হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে চা বাগানে পাহাড় কেটে পোলট্রি হ্যাচারি নির্মাণ হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদন ছাড়াই পাহাড়-টিলা কেটে সবুজের এই বিস্তৃতির মাঝে পোলট্রি হ্যাচারি নির্মাণ করা হচ্ছে, যা পরিবেশের ক্ষতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের অনাপত্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, ফলে এই প্রকল্প ঘিরে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বলছে, নিজেদের জমিতেই পরিবেশসম্মতভাবে কাজ চলছে এবং পরিবেশের ক্ষতি বা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়াই পাহাড় কেটে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। প্যারাগন গ্রুপের মালিকানাধীন ববান চা বাগানের ভেতরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে আসছে। প্রায় ২২ একর সরকারি টিলা অবৈধভাবে কাটার অভিযোগে ববান টি এস্টেট সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে উপজেলা ভূমি অফিস। তবুও প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে প্যারাগন গ্রুপ। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পাহাড়-টিলা কাটায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনার এক দশক পরও পাহাড় ধ্বংসের এই দৌরাত্ম্য থামেনি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেন আমাদের পরিবেশ ধ্বংস না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। যারা এসবের মধ্যে যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ পানিউমদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান জানিয়েছেন, পাহাড়ের ভেতরে হওয়ায় তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেননি। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হবে। তখন আপত্তি এলে সংশ্লিষ্টরা এখানে পোলট্রি হ্যাচারি করতে পারবে না।’ প্যারাগন গ্রুপের ভূমি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুজিত সাহা জানিয়েছেন, ‘নিজস্ব জমিতে পরিবেশসম্মতভাবেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতি ও জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই।’
রিপোর্টারের নাম 






















