ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেতার সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডবে নড়াইলের অর্ধশতাধিক পরিবার পুরুষশূন্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাশমত শেখ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সন্ত্রাসী বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই বাহিনী স্থানীয় বিএনপি মতাদর্শের লোকদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সাতবাড়িয়া গ্রামে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ র‌্যাব-পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা-হুমকিতে গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গ্রামছাড়া হয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, হাশমত শেখ কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের পাটেশ্বরী গ্রামের মৃত তকিবুর রহমানের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারি হিসেবেও পরিচিত। এলাকার জুয়ার আসর এবং অনলাইন প্রতারণার নিয়ন্ত্রণও তার হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে জয়ী হতে গোপনে আওয়ামী লীগ দলীয় লোকজনকে সংগঠিত করা, আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী নানা কর্মকাণ্ড, নাশকতা-চক্রান্তসহ গোটা এলাকায় অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মঙ্গলবার হাশমতকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

হাশমতের আটকের জেরে তার ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইরকান, জিল্লু শেখ, হাফিজুর, শাহীন শেখ, রুনু শেখ, মান্নান শেখ, সাতবাড়িয়া গ্রামের রুহোল ফারাজী, জাবেদ মেম্বারের নেতৃত্বে হাশমতের সন্ত্রাসী বাহিনী তার আটকের জন্য বিএনপি দলীয় লোকজনকে দায়ী করে গত ১৬ জুন সংঘবদ্ধ দল নিয়ে বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাতবাড়িয়া গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় পুরুষরা প্রাণভয়ে পালিয়ে রক্ষা পেলেও সাইফুল ফারাজী, আব্দুল্লাহ্ ফারাজী, বাবু, রাজু শেখ, আমানত ফারাজী, রিপন ফারাজী, রব্বানী, ইজাজ, মফিজুলসহ অন্তত ১৫ পরিবারের ২০টির অধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, বিপুলসংখ্যক মারমুখী দুর্বৃত্তের হামলা প্রাথমিকভাবে প্রতিহত করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। হামলায় জড়িতদের ধরতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওসি ইদ্রিস আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা হাশমত নাশকতার মামলায় জড়িত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

আওয়ামী লীগ নেতার সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডবে নড়াইলের অর্ধশতাধিক পরিবার পুরুষশূন্য

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাশমত শেখ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার সন্ত্রাসী বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এই বাহিনী স্থানীয় বিএনপি মতাদর্শের লোকদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সাতবাড়িয়া গ্রামে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ র‌্যাব-পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা-হুমকিতে গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গ্রামছাড়া হয়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, হাশমত শেখ কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের পাটেশ্বরী গ্রামের মৃত তকিবুর রহমানের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, তিনি বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারি হিসেবেও পরিচিত। এলাকার জুয়ার আসর এবং অনলাইন প্রতারণার নিয়ন্ত্রণও তার হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ইউপি নির্বাচনে জয়ী হতে গোপনে আওয়ামী লীগ দলীয় লোকজনকে সংগঠিত করা, আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী নানা কর্মকাণ্ড, নাশকতা-চক্রান্তসহ গোটা এলাকায় অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মঙ্গলবার হাশমতকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

হাশমতের আটকের জেরে তার ক্যাডাররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইরকান, জিল্লু শেখ, হাফিজুর, শাহীন শেখ, রুনু শেখ, মান্নান শেখ, সাতবাড়িয়া গ্রামের রুহোল ফারাজী, জাবেদ মেম্বারের নেতৃত্বে হাশমতের সন্ত্রাসী বাহিনী তার আটকের জন্য বিএনপি দলীয় লোকজনকে দায়ী করে গত ১৬ জুন সংঘবদ্ধ দল নিয়ে বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাতবাড়িয়া গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় পুরুষরা প্রাণভয়ে পালিয়ে রক্ষা পেলেও সাইফুল ফারাজী, আব্দুল্লাহ্ ফারাজী, বাবু, রাজু শেখ, আমানত ফারাজী, রিপন ফারাজী, রব্বানী, ইজাজ, মফিজুলসহ অন্তত ১৫ পরিবারের ২০টির অধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, বিপুলসংখ্যক মারমুখী দুর্বৃত্তের হামলা প্রাথমিকভাবে প্রতিহত করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। হামলায় জড়িতদের ধরতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওসি ইদ্রিস আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা হাশমত নাশকতার মামলায় জড়িত ছিলেন।