ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালনকারী জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সংসদ সদস্যরা তাদের সংসদীয় এলাকার কার্যক্রমে নানা বাধা-বিঘ্ন, অবমূল্যায়ন এবং সরকারি বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের যে ধরনের গুরুত্ব বা অবস্থান থাকার কথা, তা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত বলে জানা গেছে। সরকারি দল, প্রশাসন এমনকি মন্ত্রীদের তৎপরতায় বিরোধীদলীয় এমপিদের মতামত উপেক্ষা বা অমর্যাদার শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি সরকারি নানা বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বিরোধীদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈষম্য ও বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে খোদ জাতীয় সংসদে অভিযোগ করা হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যরাও এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়নমূলক ও অন্যান্য কাজে যথাযথ ভূমিকার সুযোগ এবং সরকারি দলের সদস্যদের মতো সমান বরাদ্দ প্রত্যাশা করছেন তারা।
সূত্র মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন, এনসিপির ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২ এবং খেলাফত মজলিসের একজন প্রার্থী বিজয়ী হয়ে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরে গত মে মাসে সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধী দলের আরও ১৩ জন সদস্য নির্বাচিত হন। এসব এমপি নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও প্রথম থেকেই ক্ষমতাসীন দল ও স্থানীয় সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের বাধা, অসহযোগিতামূলক আচরণ ও প্রভাব বিস্তারের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। এমনকি কিছু জায়গায় সরকারি দলের হামলারও শিকার হয়েছেন বিরোধী দলের এমপি ও তার সমর্থকরা।
নির্বাচনি এলাকায় কাজে নানা বাধা-বিঘ্ন ও সরকারি বরাদ্দে বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমার এলাকায় উল্লাপাড়া কামিল মাদরাসার অ্যাডহক কমিটি নবায়ন করা হয় গত ১২ মে। কিন্তু ১৩ মে ঢাকা থেকে মন্ত্রীর সুপারিশে বিএনপির একজনকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এমপি হিসেবে আমার মতামত ছাড়াই এ ধরনের অনুমোদনের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, একইভাবে বিরোধী দল সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনসহ নানা কাজে স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, সরকারি দলের লোকদের চাঁদাবাজির বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রিপোর্টারের নাম 






















