ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ভোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: যুগ পেরিয়েও অন্ধকারে ২০ লাখ বাসিন্দা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

একসময় বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত ভোলা জেলা আবারও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই জনপদের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অনিশ্চয়তার শিকার। নিজস্ব গ্যাসসম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থতা এবং অব্যবস্থাপনা এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

জানা গেছে, দেশজুড়ে যেখানে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ ১০ থেকে ১৮ টাকা, সেখানে ভোলার নিজস্ব গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ মাত্র ২ থেকে ২.৫০ টাকা। এই সুবিধার কথা মাথায় রেখে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে ৩৪.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত জানুয়ারি মাস থেকে প্ল্যান্টটি বন্ধ রয়েছে। ফাইলগত জটিলতার কারণে এটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না, যা ভোলার বিদ্যুৎ সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

অন্যদিকে, জায়গা অধিগ্রহণের পরও ভোলা গ্রিড সাবস্টেশন প্রকল্প ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী বোরহানউদ্দিন ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে দুটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও একটি ট্রান্সফরমার দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ট্রান্সফরমারের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বারবার, যা জেলার বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

এছাড়াও, রাস্তার পাশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গাছ রোপণের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গাছ অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, যা ভোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

ভোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: যুগ পেরিয়েও অন্ধকারে ২০ লাখ বাসিন্দা

আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

একসময় বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত ভোলা জেলা আবারও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই জনপদের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অনিশ্চয়তার শিকার। নিজস্ব গ্যাসসম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থতা এবং অব্যবস্থাপনা এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

জানা গেছে, দেশজুড়ে যেখানে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ ১০ থেকে ১৮ টাকা, সেখানে ভোলার নিজস্ব গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ মাত্র ২ থেকে ২.৫০ টাকা। এই সুবিধার কথা মাথায় রেখে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট পাওয়ার জোন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে ৩৪.৫ মেগাওয়াট রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত জানুয়ারি মাস থেকে প্ল্যান্টটি বন্ধ রয়েছে। ফাইলগত জটিলতার কারণে এটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না, যা ভোলার বিদ্যুৎ সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

অন্যদিকে, জায়গা অধিগ্রহণের পরও ভোলা গ্রিড সাবস্টেশন প্রকল্প ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরবর্তী বোরহানউদ্দিন ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে দুটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হলেও একটি ট্রান্সফরমার দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ট্রান্সফরমারের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বারবার, যা জেলার বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।

এছাড়াও, রাস্তার পাশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গাছ রোপণের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গাছ অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, যা ভোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে।