চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হওয়া যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের ঘটনায় দুই দিন পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় এই মামলা করেন। এই মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার আসামিদের মধ্যে কয়েকজনকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৪ জুন) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনি চত্বরের আশরাফিয়া ফার্মেসীর সামনে সন্ত্রাসীরা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় ৫-৬ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করছে।
নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের গোলাম আলী চৌধুরী বাড়ির মৃত খালেক চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আসা ৫-৬ জন সন্ত্রাসী মাসুদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা খুব কাছ থেকে তার কোমর, বগলের নিচে এবং মাথায় ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। গুলির আঘাতে মাসুদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা পাহাড়তলি-রাউজান সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী বলেন, আমার ভাইয়ের কোনো অপরাধ ছিল না। তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি, কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালু উত্তোলনের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোন্দল ও বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এছাড়াও, অনেকে বলছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন, যা এই হত্যাকাণ্ডের একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 






















