ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীলতা নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সংকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর বাজি ধরেছিলেন। তবে, ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ইসরায়েলের বেশিরভাগ মানুষ এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন।

চলতি শরতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ের আশা করছিলেন ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের এই প্রধানমন্ত্রী। হোয়াইট হাউসে থাকা ব্যক্তিকে, যাকে তিনি দেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, তার সাহায্যেই তিনি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর পরিবর্তে, নেতানিয়াহুকে এমন একটি চুক্তি মেনে নিতে হচ্ছে যা ইসলামিক রিপাবলিক বা ইরানকে অক্ষত রাখছে। এটি সব মতের ইসরায়েলিদের কাছেই একটি অপ্রীতিকর বিষয়। ট্রাম্পের সাথে মিলে শুরু করা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য খুব কম অর্জিত হওয়ার কারণে জনমত জরিপে ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর সমর্থন কমেছে।

তেল আবিব রেডিও ১০৩ এফএম-এ এক সাক্ষাৎকারে কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বিশ্লেষক এবং নেতানিয়াহুর সমর্থক ইনন মাগাল আক্ষেপ করে বলেন, ‘ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পিঠে ছুরিকাঘাত করেছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নেতানিয়াহুর ওপর ইসরায়েলিদের সমর্থন আগেই কমেছিল। এখন ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে ট্রাম্পই যে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, তা আবারো স্পষ্ট হওয়ায় ইসরায়েলিরা নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে। দুই নেতার ফোনালাপে গালিগালাজপূর্ণ তিরস্কার এই অংশীদারিত্বে নেতানিয়াহু তথা ইসরায়েলের অধীনস্থ অবস্থানকেই স্পষ্ট করেছে।

গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘সে খুব কঠিন একজন মানুষ। সত্যি বলতে, এটি করার জন্য তার আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।’

সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই চুক্তি নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরও নিরাপদ করবে।

পুনরায় নির্বাচনে লড়াই ও জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না চুক্তিটি কেমন হবে।’ ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি একে অপরকে বহু বছর ধরে চিনি। অনেক বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক, আবার কিছু বিষয়ে অমিলও রয়েছে। ইসরায়েল…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘গোপন বৈঠক নয়’, অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুলল বিজিবি

ইরান চুক্তি: ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীলতা নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সংকট

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর বাজি ধরেছিলেন। তবে, ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ ইসরায়েলের বেশিরভাগ মানুষ এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন।

চলতি শরতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ের আশা করছিলেন ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের এই প্রধানমন্ত্রী। হোয়াইট হাউসে থাকা ব্যক্তিকে, যাকে তিনি দেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, তার সাহায্যেই তিনি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এর পরিবর্তে, নেতানিয়াহুকে এমন একটি চুক্তি মেনে নিতে হচ্ছে যা ইসলামিক রিপাবলিক বা ইরানকে অক্ষত রাখছে। এটি সব মতের ইসরায়েলিদের কাছেই একটি অপ্রীতিকর বিষয়। ট্রাম্পের সাথে মিলে শুরু করা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং ইসরায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য খুব কম অর্জিত হওয়ার কারণে জনমত জরিপে ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর সমর্থন কমেছে।

তেল আবিব রেডিও ১০৩ এফএম-এ এক সাক্ষাৎকারে কট্টরপন্থী ইসরায়েলি বিশ্লেষক এবং নেতানিয়াহুর সমর্থক ইনন মাগাল আক্ষেপ করে বলেন, ‘ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পিঠে ছুরিকাঘাত করেছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নেতানিয়াহুর ওপর ইসরায়েলিদের সমর্থন আগেই কমেছিল। এখন ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে ট্রাম্পই যে মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, তা আবারো স্পষ্ট হওয়ায় ইসরায়েলিরা নতুন করে ধাক্কা খেয়েছে। দুই নেতার ফোনালাপে গালিগালাজপূর্ণ তিরস্কার এই অংশীদারিত্বে নেতানিয়াহু তথা ইসরায়েলের অধীনস্থ অবস্থানকেই স্পষ্ট করেছে।

গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘সে খুব কঠিন একজন মানুষ। সত্যি বলতে, এটি করার জন্য তার আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।’

সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই চুক্তি নিশ্চিত করবে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না এবং উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আরও নিরাপদ করবে।

পুনরায় নির্বাচনে লড়াই ও জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না চুক্তিটি কেমন হবে।’ ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি একে অপরকে বহু বছর ধরে চিনি। অনেক বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক, আবার কিছু বিষয়ে অমিলও রয়েছে। ইসরায়েল…’