ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

গৌরীপুরে খাদ্যগুদাম নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতি: অসমাপ্ত কাজ ও মরিচা ধরা রডে শঙ্কা

ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলএসডিতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিতব্য দুটি খাদ্যগুদামের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন গুদামের পিএল পিলারের জন্য ব্যবহৃত রডগুলোতে মরিচা ধরেছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রমতে, বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সংস্পর্শে রডে মরিচা ধরে। এই মরিচা ধরা রড দিয়ে নির্মিত ভবন অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলাল হোসেন জানান, প্রায় সাত-আট মাস ধরে গুদামের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় এই বছর গৌরীপুর এলএসডিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না, যা স্থানীয় কৃষক ও রাইস মিলারদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের ডাব্লিউডি-১১ প্যাকেজের আওতায় গৌরীপুর এলএসডিতে দুটি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। গত ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ সালে এম এস স্বপ্না ট্রেডার্স ও এমএস হাফেজ এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে এই কাজের কার্যাদেশ পায়। এম এস হাফেজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাফেজ আজিজুল হক ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজটি হস্তান্তর করার কথা থাকলেও, জিএল টু পিএল পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকায় রডগুলোতে মরিচা ধরেছে, যা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাপ্তাইয়ে বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার ৮ ফুট দীর্ঘ অজগর, অবমুক্ত করা হলো বনে

গৌরীপুরে খাদ্যগুদাম নির্মাণে ঠিকাদারের গাফিলতি: অসমাপ্ত কাজ ও মরিচা ধরা রডে শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:৪২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলএসডিতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য নির্মিতব্য দুটি খাদ্যগুদামের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন গুদামের পিএল পিলারের জন্য ব্যবহৃত রডগুলোতে মরিচা ধরেছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রমতে, বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সংস্পর্শে রডে মরিচা ধরে। এই মরিচা ধরা রড দিয়ে নির্মিত ভবন অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলাল হোসেন জানান, প্রায় সাত-আট মাস ধরে গুদামের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় এই বছর গৌরীপুর এলএসডিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না, যা স্থানীয় কৃষক ও রাইস মিলারদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের ডাব্লিউডি-১১ প্যাকেজের আওতায় গৌরীপুর এলএসডিতে দুটি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। গত ৫ জানুয়ারি, ২০২৫ সালে এম এস স্বপ্না ট্রেডার্স ও এমএস হাফেজ এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে এই কাজের কার্যাদেশ পায়। এম এস হাফেজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাফেজ আজিজুল হক ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজটি হস্তান্তর করার কথা থাকলেও, জিএল টু পিএল পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকায় রডগুলোতে মরিচা ধরেছে, যা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।