ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

আত্মঘাতী গোলে মিশরের জয় স্বপ্নভঙ্গ, বেলজিয়ামের সাথে ড্র

বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের জয় স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে এক আত্মঘাতী গোলের কারণে। পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্মক ও সুশৃঙ্খল ফুটবল উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মোহাম্মদ সালাহদের। প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে এই অঘটন ঘটে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মিশর আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলে। অধিনায়ক সালাহকে কেন্দ্র করে দ্রুতগতির আক্রমণে তারা বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম তাদের তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে প্রথম একাদশে না রেখে ম্যাচ শুরু করে। প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বেলজিয়াম তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, বরং আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল মিশর। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ইমান আশুর দূরপাল্লার দুর্দান্ত গোলে মিশর এগিয়ে যায়, যা ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম গোল এবং বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেয়।

গোলের পর মিশর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। মাঝমাঠ ও রক্ষণে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলে তারা। বেলজিয়ামের সব আক্রমণ মিশরীয় ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের প্রথম প্রথমার্ধ এগিয়ে থাকার কীর্তি।

বিরতির পর বেলজিয়াম সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। কেভিন ডি ব্রুইনার একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লাগলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিশর। কিন্তু ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে আটকাতে গিয়ে মিশরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন। এই আত্মঘাতী গোলেই বেলজিয়াম ১-১ সমতায় ফেরে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। এই একটি ভুলের কারণে মিশর জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও দুই মূল্যবান পয়েন্ট হারায়। অন্যদিকে, ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করা বেলজিয়াম অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার পথে কারা হতে পারেন মূল তারকা?

আত্মঘাতী গোলে মিশরের জয় স্বপ্নভঙ্গ, বেলজিয়ামের সাথে ড্র

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের জয় স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে এক আত্মঘাতী গোলের কারণে। পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্মক ও সুশৃঙ্খল ফুটবল উপহার দিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মোহাম্মদ সালাহদের। প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে এই অঘটন ঘটে।

ম্যাচের শুরু থেকেই মিশর আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলে। অধিনায়ক সালাহকে কেন্দ্র করে দ্রুতগতির আক্রমণে তারা বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম তাদের তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে প্রথম একাদশে না রেখে ম্যাচ শুরু করে। প্রথমার্ধে বলের দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বেলজিয়াম তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, বরং আক্রমণে বেশি কার্যকর ছিল মিশর। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ইমান আশুর দূরপাল্লার দুর্দান্ত গোলে মিশর এগিয়ে যায়, যা ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম গোল এবং বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেয়।

গোলের পর মিশর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। মাঝমাঠ ও রক্ষণে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলে তারা। বেলজিয়ামের সব আক্রমণ মিশরীয় ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়ে যায়। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় মিশর, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের প্রথম প্রথমার্ধ এগিয়ে থাকার কীর্তি।

বিরতির পর বেলজিয়াম সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। কেভিন ডি ব্রুইনার একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লাগলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মিশর। কিন্তু ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোমেলু লুকাকুকে আটকাতে গিয়ে মিশরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানি নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন। এই আত্মঘাতী গোলেই বেলজিয়াম ১-১ সমতায় ফেরে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তৃতীয় আত্মঘাতী গোল। এই একটি ভুলের কারণে মিশর জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও দুই মূল্যবান পয়েন্ট হারায়। অন্যদিকে, ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করা বেলজিয়াম অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয়।