ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা মাকসুদুল হত্যায় সাত সন্ত্রাসী জড়িত, পাঁচজন শনাক্ত

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর মধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। গত শনিবার দুপুরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য বাজারের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় অস্ত্রধারী কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াছ ওরফে ধামা ইলিয়াছ, মো. ইউছুফ, দিদারুল আলম ও আবছার অন্যতম। এছাড়া কিলিং মিশনে একটি ব্যাকআপ টিমও সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে। এই টিমে মো. পারভেজ ও মো. আইয়ুব নামের দুজন সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ দাবি করছে, তিনটি পিস্তল ও দুটি শটগান হাতে থাকা পাঁচ অস্ত্রধারী ছাড়াও ব্যাকআপ টিমের দুই সদস্যসহ মোট সাতজন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য। সূত্রমতে, গোলাপি পোশাক পরিহিত শটগানধারী ছিলেন ধামা ইলিয়াছ, কালো টি-শার্ট পরিহিত শটগানধারী আবছার। অন্যদিকে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরিহিত পিস্তলধারী ছিলেন মো. ইউছুফ এবং একই ধরনের পোশাকে থাকা আরেক পিস্তলধারী ছিলেন দিদারুল আলম।

শনাক্তকৃত সন্ত্রাসীদের মধ্যে ধামা ইলিয়াছ ও আবছারের বাড়ি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নে, ইউছুফের বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং দিদারুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায়। ব্যাকআপ টিমে থাকা পারভেজের বাড়ি গশ্চি ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকায় এবং আইয়ুবের বাড়ি কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও রাউজানে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টেরহাট এলাকায় যুবদল কর্মী সেলিম হত্যা মামলারও আসামি। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুমাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: আট ক্রুর মৃত্যু

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা মাকসুদুল হত্যায় সাত সন্ত্রাসী জড়িত, পাঁচজন শনাক্ত

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর মধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। গত শনিবার দুপুরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য বাজারের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় অস্ত্রধারী কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াছ ওরফে ধামা ইলিয়াছ, মো. ইউছুফ, দিদারুল আলম ও আবছার অন্যতম। এছাড়া কিলিং মিশনে একটি ব্যাকআপ টিমও সক্রিয় ছিল বলে জানা গেছে। এই টিমে মো. পারভেজ ও মো. আইয়ুব নামের দুজন সদস্য থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ দাবি করছে, তিনটি পিস্তল ও দুটি শটগান হাতে থাকা পাঁচ অস্ত্রধারী ছাড়াও ব্যাকআপ টিমের দুই সদস্যসহ মোট সাতজন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য। সূত্রমতে, গোলাপি পোশাক পরিহিত শটগানধারী ছিলেন ধামা ইলিয়াছ, কালো টি-শার্ট পরিহিত শটগানধারী আবছার। অন্যদিকে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরিহিত পিস্তলধারী ছিলেন মো. ইউছুফ এবং একই ধরনের পোশাকে থাকা আরেক পিস্তলধারী ছিলেন দিদারুল আলম।

শনাক্তকৃত সন্ত্রাসীদের মধ্যে ধামা ইলিয়াছ ও আবছারের বাড়ি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নে, ইউছুফের বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং দিদারুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায়। ব্যাকআপ টিমে থাকা পারভেজের বাড়ি গশ্চি ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকায় এবং আইয়ুবের বাড়ি কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও রাউজানে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টেরহাট এলাকায় যুবদল কর্মী সেলিম হত্যা মামলারও আসামি। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুমাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে।