ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

‘গোপন বৈঠক নয়’, অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুলল বিজিবি

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

সোমবার (১৫ জুন) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলন ঘিরে কিছু বিশ্লেষণ ও মন্তব্য অনুমাননির্ভর এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারাই নন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস’ (জেআরডি) নামে যৌথ নথিতে লিপিবদ্ধ করা হয়, যা উভয় বাহিনীর মহাপরিচালক স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, মাদক চোরাচালান, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ, পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ দৃঢ়ভাবে উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো যৌথ নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনাও করেছে বাহিনীটি। বিজিবির মতে, সীমান্ত সম্মেলনের সময় আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক রীতি। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আগের সম্মেলনেও বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের বৈঠক করেছিলেন।

বাহিনীটি জানায়, অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎটি পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল এবং সেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগ সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

বিজিবি আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রমে বাহিনীটি দৃঢ় ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ প্রচারণা বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

সবশেষে বিজিবি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর বিষয়ে যাচাইকৃত তথ্য ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করা উচিত।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার পথে কারা হতে পারেন মূল তারকা?

‘গোপন বৈঠক নয়’, অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুলল বিজিবি

আপডেট সময় : ১০:২২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে কিছু ব্যক্তি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি।

সোমবার (১৫ জুন) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলন ঘিরে কিছু বিশ্লেষণ ও মন্তব্য অনুমাননির্ভর এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ ধারণার ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারাই নন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো ‘জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস’ (জেআরডি) নামে যৌথ নথিতে লিপিবদ্ধ করা হয়, যা উভয় বাহিনীর মহাপরিচালক স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন, মাদক চোরাচালান, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ, পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ দৃঢ়ভাবে উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেগুলো যৌথ নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি বন্ধ এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষাৎকে ‘গোপন বৈঠক’ হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনাও করেছে বাহিনীটি। বিজিবির মতে, সীমান্ত সম্মেলনের সময় আয়োজক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক রীতি। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আগের সম্মেলনেও বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একই ধরনের বৈঠক করেছিলেন।

বাহিনীটি জানায়, অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎটি পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত ছিল এবং সেখানে সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্বেগ সরাসরি তুলে ধরা হয়েছে।

বিজিবি আরও দাবি করেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি এবং পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রমে বাহিনীটি দৃঢ় ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ প্রচারণা বাহিনীর মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

সবশেষে বিজিবি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্পর্শকাতর বিষয়ে যাচাইকৃত তথ্য ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করা উচিত।