রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক প্রদত্ত এই রায়ে বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির সাজার বিস্তারিত বিবরণ ৮০৯ পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রায়ে স্বাক্ষর হওয়ার পর এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রসিকিউটর আরও বলেন, তারা রায়ের বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবেন এবং প্রয়োজনে কোনো আসামির সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতিও রয়েছে।
রায়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার তথ্য-অনুসন্ধানকারী মিশনের কঠোর ফরেনসিক ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতির আলোকে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, রাষ্ট্র-নির্দেশিত সহিংস দমননীতির অধীনে পুলিশের সদস্যরা আবু সাঈদকে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং বেআইনিভাবে হত্যা করেছে। ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপিত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ভিডিও প্রমাণ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণের ধরণ ও জাতিসংঘের অনুসন্ধানে এটি আরও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এটি বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক ও পরিকল্পিত দমনের অংশ ছিল। এর ফলে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ৩(২)(ক)-এর অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞার আওতায় পড়ে।
ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, আবু সাঈদের মৃত্যু একাধিক আঘাতের ফলে সৃষ্ট শক এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছিল, যার মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভেদকারী আঘাতও রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, মৃত্যুটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
গত ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছিল। সেই রায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন—সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু।
রিপোর্টারের নাম 





















