ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে আখের বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে হাসি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চলতি মৌসুমে চিবিয়ে ও রস করে খাওয়ার বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত কয়েক দিনের প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে এ আখের চাহিদা আরো বেড়েছে। গরমে একটু প্রশান্তি পেতে সাধারণ মানুষের পছন্দের শীর্ষে এখন আখের রস, আর তাতেই কপাল খুলেছে স্থানীয় চাষিদের। বাম্পার ফলন এবং ভালো দামে কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

গোবিন্দগঞ্জের উর্বর মাটিতে এবার আখের যেমন ভালো ফলন হয়েছে, তেমনি আখের গড়ন ও মিষ্টতা দুটোই চমৎকার হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে বা জমির ধারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাটা আখ। ট্রাক-ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার পৌরসভা, কামারদহ, মহিমাগঞ্জ, সাপমারা, দরবস্ত, কোচাশহর, ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ২১৫ হেক্টর জমিতে চিবিয়ে ও রস করে খাওয়ার বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী-১৬, ৩৭, বারী-১, ৪২, ১৭ জাতের আখ রয়েছে। বকশি চর গ্রামের চাষি জায়েদ আলী বলেন, আমি এবার এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এতে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বিক্রি করেছি এক লাখ ২০ হাজার টাকা। গ্রীষ্মের এ গরম আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। গতবার যে আখ ১০-১২ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার তা ১২-১৫ টাকায় অনায়াসে বিক্রি হচ্ছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশ ভালো।

বগুড়া থেকে আখ কিনতে আসা মেহেদুল ইসলাম জানান, (৫০টির আটি) ১০ আটি চিকন আখ কিনেছি চারশ টাকা আটি দরে। আর মোটা, পুষ্ট ও লম্বা আখ প্রতিটি ১২ টাকা দরে এক হাজার আখ কিনে মিনিট্রাক ভাড়া করে নিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়াও অনেকে আবার জমি থেকে বিঘাপ্রতি চুক্তি করে আখ ক্রয় করে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, গোবিন্দগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নের মাটি এ বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আখের আবাদও খুব ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা এ আখ চাষে অধিকতর লাভবান হচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: আট ক্রুর মৃত্যু

গোবিন্দগঞ্জে আখের বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে হাসি

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে চলতি মৌসুমে চিবিয়ে ও রস করে খাওয়ার বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গত কয়েক দিনের প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে এ আখের চাহিদা আরো বেড়েছে। গরমে একটু প্রশান্তি পেতে সাধারণ মানুষের পছন্দের শীর্ষে এখন আখের রস, আর তাতেই কপাল খুলেছে স্থানীয় চাষিদের। বাম্পার ফলন এবং ভালো দামে কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

গোবিন্দগঞ্জের উর্বর মাটিতে এবার আখের যেমন ভালো ফলন হয়েছে, তেমনি আখের গড়ন ও মিষ্টতা দুটোই চমৎকার হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে বা জমির ধারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাটা আখ। ট্রাক-ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার পৌরসভা, কামারদহ, মহিমাগঞ্জ, সাপমারা, দরবস্ত, কোচাশহর, ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ২১৫ হেক্টর জমিতে চিবিয়ে ও রস করে খাওয়ার বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঈশ্বরদী-১৬, ৩৭, বারী-১, ৪২, ১৭ জাতের আখ রয়েছে। বকশি চর গ্রামের চাষি জায়েদ আলী বলেন, আমি এবার এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। এতে ২৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বিক্রি করেছি এক লাখ ২০ হাজার টাকা। গ্রীষ্মের এ গরম আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। গতবার যে আখ ১০-১২ টাকায় বিক্রি করেছি, এবার তা ১২-১৫ টাকায় অনায়াসে বিক্রি হচ্ছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশ ভালো।

বগুড়া থেকে আখ কিনতে আসা মেহেদুল ইসলাম জানান, (৫০টির আটি) ১০ আটি চিকন আখ কিনেছি চারশ টাকা আটি দরে। আর মোটা, পুষ্ট ও লম্বা আখ প্রতিটি ১২ টাকা দরে এক হাজার আখ কিনে মিনিট্রাক ভাড়া করে নিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়াও অনেকে আবার জমি থেকে বিঘাপ্রতি চুক্তি করে আখ ক্রয় করে থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, গোবিন্দগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নের মাটি এ বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আখের আবাদও খুব ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা এ আখ চাষে অধিকতর লাভবান হচ্ছেন।