বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এশিয়ার প্রতিনিধি ইরাক ও ইউরোপের অন্যতম শক্তি নরওয়ে। বোস্টন স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই ম্যাচটি দুদলের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গ্রুপ পর্বে শুভসূচনা করতে না পারলে টুর্নামেন্টের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
ইরাক ও নরওয়ে উভয় দলই দীর্ঘ বিরতির পর ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। ইরাক তাদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেল; ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বমঞ্চে খেলছে। অন্যদিকে, নরওয়ে শেষবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ১৯৯৮ সালে, যেখানে তারা শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুদলেরই লক্ষ্য এবার নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।
কাগজে-কলমে নরওয়ে এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩১তম স্থানে থাকা নরওয়েজিয়ানরা ইরাকের (৫৭তম) চেয়ে ২৬ ধাপ এগিয়ে রয়েছে। উয়েফা বাছাই পর্বে স্টেল সোলবাকেনের দল ছিল অপ্রতিরোধ্য; তারা সবকটি ম্যাচ জিতে ২৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং এ সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৩৭টি গোল দেয়। আর্লিং হ্যালান্ড ও মার্টিন ওডিগার্ডের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে গড়া নরওয়ের আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই ভীতি জাগানিয়া।
বিপরীতে, ইরাকের বিশ্বকাপ টিকিট কাটার পথটি ছিল বেশ নাটকীয়। বাছাই পর্বের মাঝে কোচ বরখাস্তের পর দায়িত্ব নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে তারা মূল পর্ব নিশ্চিত করে। তবে, কনফেডারেশনের বাইরের দলগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়; গত আট ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে।
এ গ্রুপে ফ্রান্স ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকায় প্রথম ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট তুলে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জালাল হাসানের নেতৃত্বে ইরাকের রক্ষণভাগ যদি নরওয়ের আক্রমণ রুখে দিতে পারে, তবে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। বোস্টনের মাঠে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হওয়া এ দুদলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা শেষ হাসি হাসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 























