পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে লাম্পি স্কিন ডিজিজ বা গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত মারাত্মক চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক বাছুরের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার গবাদিপশু আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কমবেশি এই রোগে আক্রান্ত গরু ও বাছুর দেখা যাচ্ছে। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না এবং বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে না, যা খামারিদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।
কৃষক ও খামারিদের অভিযোগ, পাঁচ বছরের কম বয়সী বাছুরগুলো এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং চিকিৎসার অভাবে অনেকের বাছুর মারাও গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন না। স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, গত এক মাসে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
মাধবখালী ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া গ্রামের ফজলু খান, নুরুল হক চৌকিদার এবং সালাম মোল্লা জানান, তাদের একটি করে বাছুর এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। মুন্সিরহাট বাজারসংলগ্ন সাখাওয়াত হাওলাদার তার বাছুরের গুরুতর অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, চামড়া উঠে ক্ষতে পরিণত হয়েছে এবং সুস্থ হওয়া নিয়ে তিনি সন্দিহান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মাসুদ জানিয়েছেন, আক্রান্ত গবাদিপশুর শরীরে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকে, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরে। শরীরের চামড়ায় শক্ত ও গোলাকার গুটি বা চাকা চাকা ফোসকা দেখা দেয়। আক্রান্ত পশুদের আলাদা মশারির ভেতর রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি এবং প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং জেলায় ব্যাপক সংখ্যক গবাদিপশু এতে আক্রান্ত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















