রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় মো. আসাদুজ্জামান (২৪) নামে এক যুবকের অগ্নিদগ্ধ ও হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ ঝলসে দিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিহত আসাদুজ্জামান কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিল মানুষমারি গ্রামের মো. শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলায় অবস্থিত মীর মোশাররফ হোসেন কলেজের ডিগ্রি শাখার ছাত্র ছিলেন। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলিমুজ্জামন দাবি করেছেন, আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয়কর্মী ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আসাদুজ্জামান নিখোঁজ হন। রাত ৮টার দিকে তিনি তার সৌদি প্রবাসী দুলাভাইয়ের কাছে মুঠোফোনে জরুরি পাঁচ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সোমবার সকালে মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামে দাখিল মাদরাসার সামনের মাঠে, ভাটিয়াপাড়া রেলপথ ও চন্দনা নদীর তীরে একটি পাটক্ষেতের পাশ থেকে স্থানীয় কৃষকরা তার বিকৃত লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেন।
এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকাবাসী স্তম্ভিত ও শোকাহত। নিহতের ফুপাতো ভাই মো. হাফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মোল্লা জানান, আসাদুজ্জামান অত্যন্ত নম্র ও ভালো স্বভাবের ছেলে ছিলেন এবং এলাকায় কারও সঙ্গে তার কোনো বিবাদ বা শত্রুতা ছিল না। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে কালুখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ বিষয়ে পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, এটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। একটি পাটক্ষেতের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং আশা করছি খুব দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
রিপোর্টারের নাম 























