মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। এই চুক্তি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনা শুরুর পথ খুলে দিয়েছে। তবে চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই জলপথ দিয়ে চলাচল ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ থাকবে। তবে ইরানের দুটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়ে বিনা খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও, পরবর্তীতে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; কারণ, প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন অপসারণের বিষয়ে আলাদা সমঝোতা প্রয়োজন হবে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুদ্ধবিরতি। সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, উভয় পক্ষ সব ফ্রন্টে, এমনকি লেবাননেও, সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায় লেবাননের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, চুক্তির পক্ষে না থাকা ইসরাইল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে না।
পারমাণবিক ইস্যুতেও এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান আশ্বাস দিয়েছে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না। তবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বা মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গীকার চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত অর্থের বিষয়েও দুই পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ ছাড় না করলে ৬০ দিনের পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে না। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া কোনো অর্থ ছাড়া হবে না।
এই চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর তাৎক্ষণিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। তবে চুক্তির অস্পষ্ট দিকগুলো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 























