উপজেলা প্রতিনিধি, রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (মাসুদ) হত্যাকাণ্ডের দুদিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পাঁচজন আসামিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখনও মামলা হয়নি, তবে তদন্ত চলছে।
গত শনিবার (১৪ জুন) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চৌমুহনি চত্বরের আশরাফিয়া ফার্মেসীর সামনে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৬-৭ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে এবং মাথায় গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গোলাম আলী চৌধুরী বাড়ির মৃত খালেক চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সূত্রমতে, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা ৬-৭ জন সন্ত্রাসী অতর্কিতে মাসুদের ওপর হামলা চালায়। তারা খুব কাছ থেকে তার কোমর, বগলের নিচে এবং মাথায় ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। গুলির আঘাতে মাসুদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা পাহাড়তলি-রাউজান সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের কোনো অপরাধ ছিল না এবং তিনি কারো ক্ষতি করেননি। কেন তাকে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং এ ঘটনার বিচার চেয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালু উত্তোলনের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের কোন্দল ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এছাড়াও, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন, যা হত্যাকাণ্ডের একটি কারণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। নিহতের অনুসারীরা পাহাড়তলি এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং কয়েক ঘণ্টা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে রাখেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 
























