জুলাই গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার বাবা কবির হোসেন মৃধা। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি এই জবানবন্দি পেশ করেন।
জবানবন্দিতে কবির হোসেন জানান, তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি এবং তার বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গীতে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও ছেলে বিজয় মিছিলের উদ্দেশ্যে উত্তরা বিএনএস-এ যায়। সেখানে গুলির শব্দ শুনে তারা যে যার মতো দৌড় দেয়। এক পর্যায়ে একটি গুলি তার ছেলের গলার সামনের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে পিঠের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, গুলিটি ওপর দিক থেকে এসেছিল। পরে সানজিদের পাশে থাকা ছাত্র-জনতা তাকে দ্রুত উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার মেয়ে সানজিদের ফোনে বারবার চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে অন্য একজন ফোন রিসিভ করলে জানতে পারে যে সানজিদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি আছে।
হাসপাতালে পৌঁছে তারা দেখেন যে, তার ছেলে সানজিদ মৃত অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে। সেদিনের ঘটনায় হাসপাতালে সানজিদের মতো আরও আটজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ডাক্তাররা দ্রুত লাশ সরিয়ে নিতে বলেন কারণ সেখানে লাশ রাখার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বাইরে তখন প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছিল, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে লাশ নিয়ে বের হওয়া সম্ভব হয়নি। কবির হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুলিতে তার ছেলেসহ আটজন শহীদ হন। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেছিল, যাতে আহতদের কোনো চিকিৎসা না দেওয়া হয়। ওই দিন গুলিতে উত্তরা এলাকায় আনুমানিক ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছিল বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























