ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা একটি বড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চুক্তি ইসরায়েলের প্রধান উদ্বেগগুলোকে পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা না করায় তেলআবিবে হতাশা বাড়ছে।
রোববার ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির সম্পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং ইসরায়েল সরাসরি আলোচনায় অংশ নেয়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যানুসারে, চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন সীমিত করার মতো কোনো স্পষ্ট ব্যবস্থা নেই। ইসরায়েলের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সেই অর্থ হিজবুল্লাহ বা হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলোর হাতে যেতে পারে, যারা অতীতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের শর্ত থাকবে, তা এখনো অস্পষ্ট। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ভবিষ্যৎ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যে এসব বিষয়ে আরও আলোচনার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিকভাবেও নেতানিয়াহু কঠিন সময় পার করছেন। আসন্ন নির্বাচনে তার অবস্থান দুর্বল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প যেখানে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে ‘বাস্তববাদী’ বলেছেন, সেখানে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ ও ‘বিচক্ষণতার অভাব রয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নেতানিয়াহু এক ধরনের রাজনৈতিক ফাঁদে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময় ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর একটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















