জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্থান দিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত বিশ্ব সাহিত্য অভিধান ‘দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর’। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ফরাসি জ্ঞানকোষ ও অভিধান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস (Larousse) তাদের প্রকাশিত তথ্যভাণ্ডারে নজরুলকে বাংলা ভাষার একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে তুলে ধরেছে।
লারুস-এর তথ্য অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ সালে চুরুলিয়া এবং তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলা ভাষার একজন কবি হিসেবে পরিচিত এবং বিশেষভাবে ‘পোএৎ র্যবেল্’ বা ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে সমধিক পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকর্মকে দেশপ্রেম, সামাজিক চেতনা এবং মানবিক অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ গীতিকাব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে নজরুলের উল্লেখযোগ্য রচনার উদাহরণ হিসেবে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) এবং ‘ভাঙার গান’-এর নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারী এই প্রসঙ্গে বলেন, ইউরোপের একটি স্বীকৃত ও দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্যভিত্তিক জ্ঞানকোষে কাজী নজরুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক পরিচিতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একজন কবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহ্যবাহী বৈশ্বিক উপস্থিতিকেও নির্দেশ করে।
কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের সভাপতি কবি সোহেল আহমদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বাংলাদেশের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর সাহিত্য আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি আরও জানান, ফরাসি কমিউনিটির মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করার লক্ষ্যে তাদের সংগঠন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফরাসি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস-এর ‘দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর’ বিশ্বজুড়ে সাহিত্য, লেখক এবং সাহিত্যধারার ওপর বিস্তৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য সুপরিচিত।
রিপোর্টারের নাম 
























