বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অর্ধশতাব্দী আগে গড়ে ওঠা জরাজীর্ণ সপ্তপদী মার্কেট থেকে প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে পৌরসভা। মার্কেটটির দোকানগুলো নামমাত্র ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসায়ীরা চড়া মূল্যে সাবলেট দিচ্ছেন, এমনকি দোকানের সামনে অতিরিক্ত স্টল বসিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। অথচ এর কোনো অর্থই পৌরসভার রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে না, যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে।
জানা গেছে, প্রতিটি দোকানের সামনেই দুটি করে স্টল ভাড়া দিয়েছেন মালিকেরা। এই মালিকেরা নিজেরাই আবার সাবলেট ভাড়াটিয়া। বগুড়া পৌরসভা এই মার্কেটের দেড় শতাধিক দোকানের ভাড়া ঠিকমতো পায় না। অর্ধেক দোকানের ভাড়া রেন্ট কন্ট্রোল বা আদালতে জমা পড়ছে। দোকান মালিকেরা প্রতি স্কয়ারফিটে কেউ ১৭ টাকা আবার কেউ মাত্র সাত টাকা ভাড়া দেন। যারা আদালতে ভাড়া দেন, তারা বহুগুণ বেশি টাকা নিয়ে সাবলেট দিচ্ছেন, যার ফলে পৌরসভা বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সপ্তপদী মার্কেটটি ২৩ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত। স্বাধীনতার আগে ১৯৬৮ সালে সামনের অংশের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর মার্কেটটির দোকান নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে পেছনের অংশে আবার নির্মাণ কাজ শুরু হলে তিনতলা ভবনে দেড় শতাধিক দোকান ও অগ্রণী ব্যাংক অফিস ভাড়া দেওয়া হয়। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম প্রতি স্কয়ার ফুট ৫০ পয়সা করে ১৫ বছরের জন্য চুক্তিনামা করেন।
এরপর ২০০৪ সালে মাহবুবুর রহমান পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি বরাদ্দকৃতদের নোটিস দেন এবং প্রতি স্কয়ার ফুট সাত টাকা নির্ধারণ করেন। দ্বিতীয় দফায় ২০১৫ সালে ভাড়া বাড়িয়ে নতুন চুক্তি করতে বলা হলে দোকান মালিকরা আন্দোলন করেন। তখন অর্ধেক দোকান মালিক ১৭ টাকা মেনে নিলেও বাকি দোকানের মালিকরা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আগের ভাড়াই আদালতে জমা দিতে থাকেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, দেড় শতাধিক দোকানের মধ্যে ১৩৮টি দোকানেই সাবলেট রয়েছে। এসব সাবলেট দোকান থেকে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছেন মূল বরাদ্দপ্রাপ্তরা। এই দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ থেকে মুক্তি পেয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশন এখন এই মার্কেটটির উন্নয়ন এবং আয় বাড়াতে চায়।
রিপোর্টারের নাম 

























