ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আতঙ্কে বাড়ি ছাড়লেন গৃহবধূ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখনো নিজ বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী নারী। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকেলে মামলা দায়েরের পরপরই এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) এবং তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ৩৩ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ। গত বুধবার বিকেলে তার স্বামী কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্তরা তার দুই শিশুসন্তানের সামনেই তাকে জোরপূর্বক রান্নাঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা উপেক্ষা করা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁ থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী।

শনিবার বিকেলে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবার হাসপাতালেই অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, মামলা করার কারণে এলাকায় ফিরে গেলে নতুন করে সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের সহযোগী ও সমর্থকদের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এলাকার কিছু মানুষ শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখন মামলা হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। এ কারণে আপাতত বাড়িতে ফিরতে চান না।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তাদের শ্বশুরবাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকায় এবং বাবার বাড়ি চাঁদপুরে হলেও পরিবারের সদস্যদের এখনো পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। ফলে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন, সে বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চাইলে নিজ এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের আচরণে ভুক্তভোগী ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করে থাকেন, তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের সর্বব্যাপী দলীয়করণের অভিযোগ জামায়াতের, রয়েছে ভয়ংকর পরিণতির হুঁশিয়ারি

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আতঙ্কে বাড়ি ছাড়লেন গৃহবধূ

আপডেট সময় : ১১:৪০:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে যুবদলের এক নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হলেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখনো নিজ বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী নারী। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, শুক্রবার বিকেলে মামলা দায়েরের পরপরই এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) এবং তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ভাড়া বাসায় স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন ৩৩ বছর বয়সী ওই গৃহবধূ। গত বুধবার বিকেলে তার স্বামী কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, অভিযুক্তরা তার দুই শিশুসন্তানের সামনেই তাকে জোরপূর্বক রান্নাঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা উপেক্ষা করা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁ থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী।

শনিবার বিকেলে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবার হাসপাতালেই অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, মামলা করার কারণে এলাকায় ফিরে গেলে নতুন করে সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের সহযোগী ও সমর্থকদের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এলাকার কিছু মানুষ শুরুতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখন মামলা হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। এ কারণে আপাতত বাড়িতে ফিরতে চান না।

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, তাদের শ্বশুরবাড়ি ঢাকার ডেমরা এলাকায় এবং বাবার বাড়ি চাঁদপুরে হলেও পরিবারের সদস্যদের এখনো পুরো ঘটনা জানানো হয়নি। ফলে কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন, সে বিষয়েও তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী চাইলে নিজ এলাকায় নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেবে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের আচরণে ভুক্তভোগী ভয় বা উদ্বেগ অনুভব করে থাকেন, তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।