জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় চার মাস পার হলেও দেশের বিচার বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে চট্টগ্রামের অংশে এখনো আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নাম শোভা পাচ্ছে। এই তালিকায় এমন অনেক আইনজীবী রয়েছেন, যারা পদধারী আওয়ামী লীগ নেতা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি। এটি বিচার বিভাগের সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের রেশ ধরে চলমান অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুধু আইনজীবীদের নামই নয়, বিচারক ও সরকারি অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামও ওয়েবসাইটটিতে নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে না। এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), জেনারেল প্রসিকিউটর (জিপি), অতিরিক্ত পিপি ও অতিরিক্ত জিপিরা। তারা বলছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা করা অনেক আইনজীবীর নাম এখনো সরকারি ওয়েবসাইটে রয়ে গেছে, যা একদিকে বর্তমান কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি সংকটে ফেলছে, অন্যদিকে সরকারের ব্যর্থতাও প্রকাশ পাচ্ছে। মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও যারা দায়িত্বে নেই, সরকারি ওয়েবসাইটে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
‘জুডিশিয়ারি গভ ডট বিডি’ নামে সরকারি ওয়েবসাইটটির ‘সরকারি আইনজীবী বাতায়ন’ অংশে ক্লিক করলে প্রতিটি জেলার জন্য আলাদা ইউআরএল খোলে, যেখানে সরকারি আইন কর্মকর্তাদের নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকে। কিন্তু চট্টগ্রামের অপশনে এখনো আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের নাম বহাল রয়েছে। এর মধ্যে সবার শীর্ষে থাকা আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীকে জেলা পিপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তিনিসহ চট্টগ্রামের ৩৫১ জন সরকারি আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল এবং নতুন দায়িত্ব পান অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক।
ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীকে ২০২২ সালের ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকার নিয়োগ দিয়েছিল। তিনি চট্টগ্রামের মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জামিনে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে ওয়েবসাইটে জেলা জিপি হিসেবে নাজমুল হাসান আলমগীরের নামও রয়েছে, যিনি কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক। অথচ বর্তমানে জেলা জিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আবুল কাশেম চৌধুরী। এছাড়া ওয়েবসাইটে প্রথম অতিরিক্ত পিপিদের তালিকায় ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাড. আজহারুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক ভবতোষ নাথ, আওয়ামী লীগ নেত্রী দিল মনি দে, তপন কুমার দাশ, ইকবাল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং দ্বিতীয় অতিরিক্ত পিপি পাল চন্দ্র চৌধুরী, সমীর দাশের নামও দেখা যাচ্ছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান।
রিপোর্টারের নাম 
























