ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল

আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেছেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, বরং এর প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে একটি ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের কপি সংযুক্ত করে তিনি এই দাবি করেন।

শিশির মনিরের মতে, গত ৪ জুন ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুযায়ী হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে হাসপাতালটির লাইসেন্স নম্বর ‘HSM 4310059’ উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। তবে, শিশির মনিরের দাবি অনুযায়ী, এই লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়, এটি প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বরটি হলো ‘HSM 4310058’। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সরকার দুটি লাইসেন্স জারি করেছে, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের জন্য এবং অন্যটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির জন্য।

ফেসবুক পোস্টে তিনি হাসপাতাল ও প্যাথলজির লাইসেন্স সংযুক্ত করে প্রশ্ন তুলেছেন, কর্তৃপক্ষ (সরকার) কোনটির লাইসেন্স বাতিল করল, তা তারাই ভালো বলতে পারবে। তিনি এই ঘটনাকে কর্তৃপক্ষের অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত কাজ, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এবং বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেছেন, আদেশে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়েছে যে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। তিনি আরও জানিয়েছেন, এগুলো করে কোনো লাভ হবে না এবং তারা আগামীকাল (রবিবার) সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। প্রয়োজনে আদেশে সংশোধনও করা হবে।

এর আগে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছিলেন যে, হাসপাতালটিকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন এবং তাই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাতিলের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত একটি তদন্ত কমিটি ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে লগি-বৈঠা মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩ জন আটক

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল

আপডেট সময় : ০৭:০০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেছেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়নি, বরং এর প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে একটি ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিলের আদেশের কপি সংযুক্ত করে তিনি এই দাবি করেন।

শিশির মনিরের মতে, গত ৪ জুন ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ অনুযায়ী হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে হাসপাতালটির লাইসেন্স নম্বর ‘HSM 4310059’ উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। তবে, শিশির মনিরের দাবি অনুযায়ী, এই লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়, এটি প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বরটি হলো ‘HSM 4310058’। হাসপাতাল পরিচালনার জন্য সরকার দুটি লাইসেন্স জারি করেছে, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের জন্য এবং অন্যটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির জন্য।

ফেসবুক পোস্টে তিনি হাসপাতাল ও প্যাথলজির লাইসেন্স সংযুক্ত করে প্রশ্ন তুলেছেন, কর্তৃপক্ষ (সরকার) কোনটির লাইসেন্স বাতিল করল, তা তারাই ভালো বলতে পারবে। তিনি এই ঘটনাকে কর্তৃপক্ষের অবহেলা নাকি ইচ্ছাকৃত কাজ, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এবং বিচারের ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেছেন, আদেশে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়েছে যে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। তিনি আরও জানিয়েছেন, এগুলো করে কোনো লাভ হবে না এবং তারা আগামীকাল (রবিবার) সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। প্রয়োজনে আদেশে সংশোধনও করা হবে।

এর আগে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছিলেন যে, হাসপাতালটিকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন এবং তাই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাতিলের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত একটি তদন্ত কমিটি ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, এই মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।