ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সিডিএ চেয়ারম্যান

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঘোষণা করেছেন যে, চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নান্দনিক, আধুনিক এবং পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিডিএর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নগর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সিডিএর যে দৃশ্যমান দূরত্ব বা সমন্বয়হীনতা ছিল, তা আর থাকবে না।’ তিনি আরও জোর দেন যে, ‘চট্টগ্রাম নগরীর টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সব ধরনের সমস্যা সমাধানে এবার একটি যুগান্তকারী সমন্বয় নিশ্চিত করে কাজ করা হবে। সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একযোগে কাজ করার সংস্কৃতি তৈরি করাই আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

নতুন চেয়ারম্যান জানান, তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানের অধীনে চট্টগ্রামের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত বিশেষজ্ঞ গ্রুপ দিয়ে পুরো শহরকে নতুন করে সাজানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই মাস্টার প্ল্যানকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সেই অনুযায়ী নগরায়ন করা হলে চট্টগ্রাম একটি আন্তর্জাতিক মানের মেগাসিটিতে রূপান্তর হবে।

নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, সিডিএর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নগরের উন্নয়ন ও সিডিএর স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকর্তা কাজ করার প্রমাণ পেলে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নতুন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো অবস্থাতেই সরকারি বা সিডিএর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রাখা যাবে না এবং উচ্ছেদ অভিযানে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও জানান, নগরের কোথাও অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ বা পাহাড় কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাহাড়, পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় সিডিএ কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

চট্টগ্রামকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে: সিডিএ চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঘোষণা করেছেন যে, চট্টগ্রামকে একটি সবুজ, নান্দনিক, আধুনিক এবং পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিডিএর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নগর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে সিডিএর যে দৃশ্যমান দূরত্ব বা সমন্বয়হীনতা ছিল, তা আর থাকবে না।’ তিনি আরও জোর দেন যে, ‘চট্টগ্রাম নগরীর টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সব ধরনের সমস্যা সমাধানে এবার একটি যুগান্তকারী সমন্বয় নিশ্চিত করে কাজ করা হবে। সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একযোগে কাজ করার সংস্কৃতি তৈরি করাই আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

নতুন চেয়ারম্যান জানান, তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পূর্ববর্তী চেয়ারম্যানের অধীনে চট্টগ্রামের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত বিশেষজ্ঞ গ্রুপ দিয়ে পুরো শহরকে নতুন করে সাজানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই মাস্টার প্ল্যানকে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সেই অনুযায়ী নগরায়ন করা হলে চট্টগ্রাম একটি আন্তর্জাতিক মানের মেগাসিটিতে রূপান্তর হবে।

নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, সিডিএর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নগরের উন্নয়ন ও সিডিএর স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকর্তা কাজ করার প্রমাণ পেলে ত্বরিত গতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নতুন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো অবস্থাতেই সরকারি বা সিডিএর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রাখা যাবে না এবং উচ্ছেদ অভিযানে কোনো আপস করা হবে না। তিনি আরও জানান, নগরের কোথাও অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ বা পাহাড় কাটা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাহাড়, পুকুর ও জলাশয় রক্ষায় সিডিএ কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।