দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে স্থবির বলে ধারণা করা হতো। তবে সাম্প্রতিক কিছু পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীলতা এবং আংশিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে।
বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যকে দেশটির অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা ও প্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রবাহ রাষ্ট্রীয় এবং নির্দিষ্ট কিছু খাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কৌশলগত রপ্তানি, বিশেষ করে অস্ত্র ও শিল্পজাত পণ্যের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া রাজস্ব আয়ের একটি অংশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে। পাশাপাশি চীনের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য কাঠামো কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে শহুরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন ধারার সূচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘সামহুং’-এর মতো রাইড-হেইলিং অ্যাপের ব্যবহার, মোবাইল প্রযুক্তির প্রসার এবং ভোক্তা বাজারে কিছু নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি নির্দেশ করে যে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশের আয় এবং ব্যয় করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই অগ্রগতি সমগ্র জাতীয় অর্থনীতির সমান উন্নতি নির্দেশ করে না। এটি মূলত নির্দিষ্ট শহর, রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সীমিত কিছু বাণিজ্য নেটওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। একজন পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, “পিয়ংইয়ংয়ে এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম দেখা যায়, বিশেষ করে ডিজিটাল সেবা ও ভোক্তা খাতে।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু ক্ষেত্রে অভিজাত শ্রেণি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমাজে আয় বৈষম্য বাড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ—এই সব কারণ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে এখনও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমাবদ্ধ রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের বড় অংশ মনে করেন। তাই, যে ‘অর্থনৈতিক সাফল্য’ চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা আংশিক এবং বিতর্কিত বলেই তারা উল্লেখ করছেন।
রিপোর্টারের নাম 























