ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি: নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া ল্যাপটপটি এইচপি ব্র্যান্ডের এবং এটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ব্যবহার করতেন। একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরেক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহাদি আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের দপ্তরও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে একান্ত সচিব তার কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিল থেকে ল্যাপটপটি উধাও হয়ে যায়। সে সময় কক্ষে বিদ্যুৎ ছিল না এবং সেখানে লোকজনের আনাগোনা ছিল। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি করেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খয়েরি রঙের শার্ট ও অ্যাশ রঙের প্যান্ট পরিহিত প্রায় ৪৫-৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে ভবন থেকে বের হচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র ধারণা করছে, চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ওই ব্যাগে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এই ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৬ তলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং দর্শনার্থীদের অবাধ চলাচল রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা আরও বলেন, লিফট থেকে নেমে নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই দপ্তর এলাকায় প্রবেশ করা সম্ভব, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেছেন, ঘটনার পরপরই উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবনে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে আছেন, যা পুরো ভবনের তুলনায় অপ্রতুল। জনবল বাড়ানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ল্যাপটপের মালিক মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি: নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া ল্যাপটপটি এইচপি ব্র্যান্ডের এবং এটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ব্যবহার করতেন। একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরেক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহাদি আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের দপ্তরও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে একান্ত সচিব তার কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিল থেকে ল্যাপটপটি উধাও হয়ে যায়। সে সময় কক্ষে বিদ্যুৎ ছিল না এবং সেখানে লোকজনের আনাগোনা ছিল। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি করেও ল্যাপটপটি উদ্ধার করা যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, খয়েরি রঙের শার্ট ও অ্যাশ রঙের প্যান্ট পরিহিত প্রায় ৪৫-৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কালো ব্যাগ নিয়ে ভবন থেকে বের হচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র ধারণা করছে, চুরি হওয়া ল্যাপটপটি ওই ব্যাগে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

এই ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৬ তলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং দর্শনার্থীদের অবাধ চলাচল রয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা আরও বলেন, লিফট থেকে নেমে নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই দপ্তর এলাকায় প্রবেশ করা সম্ভব, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেছেন, ঘটনার পরপরই উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবনে নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে আছেন, যা পুরো ভবনের তুলনায় অপ্রতুল। জনবল বাড়ানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ল্যাপটপের মালিক মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।