জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করা সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম। সোমবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সুজন তার পারিবারিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তার অসহায় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন এবং ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সুজন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার কর্মহীনতার কারণে পরিবারটি চরম সংকটে পড়েছে। তার বাবা স্ট্রোকে আক্রান্ত এবং তালাকপ্রাপ্ত এক বোনও তার দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসার ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তার আবেদন জানালে, সুজনের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক তাকে এই সহায়তা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। সুজনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টকর। তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আমরা উদ্যোগ নেব। প্রধানমন্ত্রী সবসময় অসহায় ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনও মানবিক দায়িত্ব পালনে কাজ করে যাচ্ছে।’
আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুজন বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর জীবনটা যেন একেবারে থমকে গেছে। বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী, বোনের সংসার ভেঙে গেছে, আমার স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। পরিবারের দিকে তাকালে নিজেকে খুব অসহায় লাগে। অনেক জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু আজ জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই দেননি, ভবিষ্যতে কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। এই সহযোগিতা আমার পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।’ এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 






















