দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী। সোমবার মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনস্থ সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিদ্যুৎ মন্ত্রী পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রাক্কালে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলার জন্য অবিলম্বে প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, উচ্চ প্রযুক্তি নির্ভর এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ শুরু হওয়ার আগেই আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিরাপদ ও আধুনিকীকরণের জন্য একটি ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)-কে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালিয়ে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষা বিদেশি পরামর্শকদের সহায়তায় সম্পন্ন হবে, যাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালু হওয়ার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ করা হবে। মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, যথাসময়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে কয়লা, সৌরশক্তি এবং এখন পারমাণবিক শক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে এর জন্য ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনকে সমন্বিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এই সমন্বয়ের জন্য যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি, যা সিস্টেমের পতন ঘটাতে পারে। সেরকম কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে আজ মিটিং করা হয়েছে এবং একটি উপযুক্ত স্মার্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রী পিজিসিবি-র প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম বিষয়ে একটি বিস্তারিত কনসেপ্ট/ওয়ার্কিং পেপার উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেন।
রিপোর্টারের নাম 






















