প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী লাল ডাকবাক্সগুলো। এক সময় যা ছিল প্রিয়জনের খবর আদান-প্রদান, চাকরির আবেদন বা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর প্রধান মাধ্যম, আজ তা অবহেলা আর অযত্নে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার ব্যস্ততম সড়কের পাশে এমন একটি ডাকবাক্স সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যা অতীতের আবেগ, অপেক্ষা এবং যোগাযোগের এক নীরব প্রতিচ্ছবি।
শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এখনো কিছু ডাকবাক্সের দেখা মিললেও সেগুলোর বেশিরভাগই আজ মরিচা ধরা, রঙ ওঠা এবং আবর্জনার স্তূপে চাপা পড়ে আছে। এক সময় ডাকপিয়নের সাইকেলের টুং টাং শব্দ মানুষের মনে আনন্দের সঞ্চার করত, হাতে লেখা চিঠির প্রতিটি অক্ষরে থাকত ভালোবাসা ও আন্তরিকতার ছোঁয়া। কিন্তু এখন সেই স্থান দখল করেছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের এই যুগে চিঠি লেখার সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে পোস্ট অফিসের অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে।
কোটচাঁদপুরের কৃতী সন্তান এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ইউনুস আলী মোল্লা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ডাকবাক্স দেখলেই জীবনের নানা স্মৃতি মনে পড়ে যায়। প্রিয়জনের চিঠির জন্য অপেক্ষা, চাকরির নিয়োগপত্রের আশায় পথ চেয়ে থাকা—এসবই এখন কেবলই স্মৃতি। আজকের প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেই না, এই লাল ডাকবাক্সগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক সময়ের মানুষের হাসি-কান্না ও অনুভূতির এক সমৃদ্ধ ইতিহাস।
কোটচাঁদপুর শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দীন বলেন, এই ডাকবাক্সগুলো কেবল যোগাযোগের মাধ্যম ছিল না, বরং এগুলো ছিল আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীগুলোকে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। সময়ের পরিবর্তনে চিঠির ব্যবহার কমলেও, পুরোনো স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 






















